ফিলিস্তিনের ক্রীড়াঙ্গন আবারও শোকে ডুবলো। জাতীয় দলের সাবেক বাস্কেটবল তারকা মোহাম্মেদ শালান গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি শুধু ফিলিস্তিন নয়, আরব বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, গাজার খান ইউনিসের কাছে একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র থেকে নিজের অসুস্থ মেয়ে মরিয়ম ও পরিবারের জন্য খাবার ও ওষুধ আনতে গিয়েছিলেন শালান। কিন্তু সেখানেই নির্মমভাবে গুলিতে নিহত হন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪০ বছর। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার মেয়ে মরিয়ম রক্তে বিষক্রিয়ায় ভুগছিলেন এবং গুরুতর কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত।
ফিলিস্তিনের বাস্কেটবলে শালান ছিলেন এক কিংবদন্তি। তাকে সবাই ‘আল-জিলজাল’ নামে চিনত—যার অর্থ ‘ভূমিকম্প’। জাতীয় দলের হয়ে খেলার পাশাপাশি তিনি খাদামাত আল-বুরেইজ, খাদামাত আল-মাগাজি ও খাদামাত খান ইউনিসের মতো স্থানীয় ক্লাবগুলোর হয়ে খেলেছেন।
শেষ সময় পর্যন্ত শালান মেয়ের সুচিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইছিলেন। কিন্তু ভাগ্য তাকে আর সেই সুযোগ দিল না। কয়েক দিনের মধ্যেই ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি ক্রীড়া জগতের অন্তত তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন রাফাহ ইউথ ক্লাবের কর্মকর্তা সালেম আল-শায়ের ও আল-সালাহ স্পোর্টস ক্লাবের সাবেক তারকা আহমেদ আল-জাওরানি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই নিহত হন ফিলিস্তিনি ফুটবলের আরেক কিংবদন্তি—‘ফিলিস্তিনের পেলে’ খ্যাত সুলেইমান আল-ওবেইদ। তিনিও গাজার একটি ত্রাণকেন্দ্র থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারান।