নভেম্বরে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকেই ভাবছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ পাকিস্তানের জন্য কঠিন হতে পারে। কারণ প্রথম মেয়াদে তিনি প্রকাশ্যে ভারতকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন এবং পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছিলেন “প্রতারণা ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য।”
কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পর, যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক সংকটে পড়েছে, আর পাকিস্তান ধীরে ধীরে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
গত আগস্টে ট্রাম্প ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন। তিনি নয়াদিল্লির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসান এবং বলেন,
“ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কী করল তা নিয়ে আমার কিছু যায় আসে না। তারা চাইলে তাদের ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতিকে একসঙ্গে ডুবিয়ে দিতে পারে।”
অপরদিকে পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশ শুল্ক— যা আঞ্চলিক গড়ের চেয়ে কম এবং ভারতের ওপর আরোপিত শুল্কের তুলনায় অনেক কম।
ট্রাম্প পাকিস্তানের সঙ্গে তেল অনুসন্ধান ও যৌথ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা ও বিরল খনিজ সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগও দিয়েছেন।
পাশাপাশি ইসলামাবাদ জ্যাভলিন অ্যাডভাইজর্সের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যার নেতৃত্বে আছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জর্জ এ. সোরিয়াল ও কিথ শিলার। একসময় ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়াল নামে ট্রাম্প-সমর্থিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান পাকিস্তানের ক্রিপ্টো কাউন্সিলের সঙ্গে মেমোর্যান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষর করেছে।
তবে সাবেক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, পাকিস্তানের নেতৃত্ব সাম্প্রতিক সাফল্যে অতিরিক্ত আত্মতুষ্ট হয়ে পড়ছে। সাবেক মার্কিন দূত মালিহা লোধি বলেন,
“তোষামোদ কোনো কৌশল নয়—এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও নয়।”
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই যোগাযোগের মূল চালিকা শক্তি। উদ্বোধনী সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিকে কংগ্রেসে আশ্বস্ত করার জন্য ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছিল।
এবার ইসলামাবাদ চায় এই সখ্যতাকে স্থায়ী করা। বিশেষ করে তারা লক্ষ্য রাখছে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম—হেলিকপ্টার থেকে নৌহার্ডওয়্যার পর্যন্ত। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান বলেন, “আমরা ১৯৫০-এর দশকের সোনালি দিনে ফিরতে পারব না, কিন্তু এমন কাঠামো তৈরি করতে পারি যা যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান—দুই দেশেরই উপকারে আসবে।”