গাজা যখন আগুনে জ্বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত ন্যাটো, তখন আমেরিকার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন হুমকিকে জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছে তেহরান। ইরানের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ওয়াশিংটনের এই আচরণ ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপমূলক ও অবৈধ নীতির ধারাবাহিকতা। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞার শামিল।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি তাদের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে “বিচারিক স্বাধীনতার ওপর স্পষ্ট আক্রমণ” বলে মন্তব্য করেছে। আইসিসি জানায়, চাপ বা নিষেধাজ্ঞা যাই আসুক, তারা দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবে।
নিষেধাজ্ঞার টার্গেটে রয়েছেন ফরাসি বিচারক নিকোলাস গিলট ও কানাডীয় বিচারক কিম্বার্লি প্রোস্ট। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ফ্রান্সও মার্কিন পদক্ষেপকে বিচারিক স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে নিন্দা জানিয়েছে।
এদিকে গাজায় “গিডিয়নের রথ ২” নামে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। গাজা শহর পুরোপুরি দখল করার লক্ষ্যে চালানো এই অভিযানে অভ্যন্তরীণ সমালোচনা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে তেলআবিব।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছেন। যদিও প্রথম দফায় হামাসের ৭৫ শতাংশ শক্তি ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছিল, বিশ্লেষকদের মতে এবারও ইসরায়েলের পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে পারে। জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশেরও বেশি ইসরায়েলি জনগণ যুদ্ধ বন্ধ ও বন্দি বিনিময় চুক্তি চায়। এমনকি জার্মানিও গাজায় ইসরায়েলের পদক্ষেপ ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি নির্মাণের কড়া বিরোধিতা করেছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
তবে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা এখন জনবল সংকট। স্থানীয় যুবকরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স থেকে ইহুদিদের সৈন্য হিসেবে আনার উদ্যোগ চলছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, প্রতিবছর ৬০০ থেকে ৭০০ বিদেশি সৈন্য নিয়োগের পরিকল্পনা করছে তারা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ইহুদিবাদীদের সামরিক মনোবল দুর্বল হয়ে পড়ার বড় ইঙ্গিত।
অন্যদিকে ইউক্রেন নিয়ে ন্যাটোর সদস্য ৩২ দেশের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। সেখানে ইউক্রেনকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। যদিও ন্যাটোর বৈঠক থেকে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে আলোচনায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন বিমান সহায়তার কথাও উঠেছে। এদিকে শোনা যাচ্ছে, অন্তত ১০টি দেশ ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত।