চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, বেইজিং ইসলামাবাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাচ্ছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন তিনি। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ২১ আগস্ট জিও টিভির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।
ওয়াং ই রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছালে নূর খান এয়ারবেসে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, ইসলামাবাদস্থ চীনা দূতাবাসের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত শিশুদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে অতিথিকে বরণ করা হয়।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার জানান, দুই দেশের আলোচনায় সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, বিশেষ করে বহুল আলোচিত চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি নিয়ে। তিনি বলেন, সিপিইসি’র দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত এগিয়ে নিতে ইসলামাবাদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো ও সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীনের ভূমিকা মূল্যায়ন করে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে চায় বলেও জানান দার। আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আসন্ন বেইজিং সফরের বিষয়ও উঠে আসে।
ওয়াং ই বলেন, পাকিস্তান ও চীনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে। সিপিইসি’র দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং পাকিস্তানকে চীন ‘বিশ্বস্ত মিত্র’ হিসেবে দেখে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে উভয় দেশের যৌথ লক্ষ্য হিসেবেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিন দিনের সফরে ওয়াং ই ও ইসহাক দার কৌশলগত সংলাপের সহ-সভাপতিত্ব করবেন, যেখানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে মতবিনিময় হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, এই সফর দুই দেশের ‘সর্বকালীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও শক্তিশালী করার অংশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ জানিয়েছে, ওয়াং ই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গেও রাওয়ালপিন্ডিতে সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠকগুলোর মূল আলোচ্য বিষয় থাকবে সিপিইসি’র অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক।
উল্লেখযোগ্য যে, ভারতের গত বছরের সীমান্ত অগ্রাসনের পর এটাই ওয়াং ই-এর প্রথম পাকিস্তান সফর। এর কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি বেইজিংয়ে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে অনেকেই বলছেন ‘লোহার মতো দৃঢ় মৈত্রী’।