ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ইউরোপের প্রস্তাবিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ উদ্যোগকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলেছেন। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, এমন পদক্ষেপ নিলে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে দ্বিধা করবে না।

বুধবার ২০ আগস্ট আইআরএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের অধীনে ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’ সক্রিয় করার যেকোনো প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ। এ মন্তব্য এমন সময় এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর আবারও কূটনৈতিক আলোচনার প্রশ্ন উঠছে।

ইউরোপের তিন দেশ (ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে, তারা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি জেসিপিওএ (Joint Comprehensive Plan of Action)–এর আওতায় অক্টোবরের আগেই স্ন্যাপব্যাক সক্রিয় করবে। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের সব পুরনো নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর ফেরানো সম্ভব হবে।
কিন্তু আরাকচির মতে, ইউরোপের আর সেই অধিকার নেই। তিনি বলেন, ইউরোপ নিজেরাই এমন অবস্থান নিয়েছে—যেমন ‘জিরো এনরিচমেন্ট’ দাবি—যা কার্যত তাদের চুক্তি থেকে সরে আসার শামিল। ফলে তারা আর অংশগ্রহণকারী নয়।
“আপনারা কার্যত চুক্তি থেকে বের হয়ে গেছেন। তাই স্ন্যাপব্যাক চালু করার অধিকার কেবলমাত্র বাকি সদস্যদের।”

আরাকচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্ন্যাপব্যাক চালু হলে ইউরোপের কূটনৈতিক ভূমিকা শেষ হয়ে যাবে।
“ধরে নিলাম আপনাদের অধিকার আছে, কিন্তু যদি এটা করেন, এরপর কী হবে? ইউরোপের কূটনীতির ভূমিকা চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। তখন আর কিছুই বাকি থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, ইরান পরিস্থিতি এড়াতে চেষ্টা করছে, তবে একইসঙ্গে প্রতিক্রিয়ার জন্যও প্রস্তুত। তার মতে, নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে না, মূল প্রভাব পড়বে মানসিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে।
“জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আসলে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার তুলনায় সীমিত। তাই পরিস্থিতি আর খারাপ হবে না। কিছু কৌশলগত চাপ আসবে, কিন্তু দেশকে অচল করবে না।”

আরাকচি জানান, স্ন্যাপব্যাক মোকাবিলায় ইরান ইতোমধ্যে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
“আমরা একাধিক বৈঠক করেছি এবং যৌথ পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করেছি। যদি স্ন্যাপব্যাক চালু হয়, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।
 

Walton Ads