ভারতের ওপর ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেওয়া ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে বলেন, “আমেরিকা দীর্ঘদিন মুক্ত বাণিজ্য থেকে লাভবান হয়েছে, এখন শুল্ককে অস্ত্র বানিয়ে অন্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত দাম দিতে বাধ্য করছে।”
তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, “আমেরিকা ভারতের ওপর শুধু ৫০% শুল্ক আরোপেই থামেনি, বরং আরও বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছে। নীরবতা কেবল উগ্রবাদীদের সাহস জোগাবে। চীন এ ধরনের পদক্ষেপের দৃঢ় বিরোধিতা করছে।”
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কের বোঝা
এই মাসের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার কারণে ভারতের ওপর ২৫% শুল্ক এবং আলাদা ২৫% জরিমানা চাপিয়েছে। নতুন এই হার কার্যকর হবে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত রাশিয়ার সস্তা অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে টানটান করে তুলেছে।
ভারতের অবস্থান
ভারত যুক্তি দিয়েছে, কোটি কোটি গরিব মানুষকে ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দাম থেকে রক্ষা করতেই তারা সস্তা রাশিয়ান তেল কিনছে। দিল্লি আরও দাবি করেছে, বাইডেন প্রশাসনই আগে ভারতকে রাশিয়ার তেল কিনতে বলেছিল বিশ্ববাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য।
দিল্লি-বেইজিং সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
একসময় লাদাখের গালওয়ান সংঘর্ষের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক প্রায় ভেঙে পড়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দিল্লিতে এসে বলেন, ভারত ও চীন একে অপরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে বরং অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। একই সুরে রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও দুই দেশকে “এশিয়ার ডাবল ইঞ্জিন” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চীনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং প্রতিশ্রুতি চান যে ভারতও চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে বার্তা
রাষ্ট্রদূত জু বলেন, “বর্তমানে শুল্ক যুদ্ধ আর ক্ষমতার রাজনীতি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কিন্তু চীন ভারতের পাশে থাকবে এবং ডব্লিউটিও-র বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে রক্ষা করবে।”
তিনি আরও আশাবাদ প্রকাশ করেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন চীন সফর, যেখানে তিনি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন, চীন-ভারত সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।