মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা নির্দেশের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

খামেনি বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা) চায় ইরান যেন আমেরিকার অনুগত হয়। কিন্তু ইরানি জাতি তাদের সেই ভ্রান্ত প্রত্যাশার বিরুদ্ধে সমস্ত শক্তি নিয়ে দাঁড়াবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “অনেকে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে বা আমেরিকাবিরোধী স্লোগান না দিতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি অমীমাংসিত।”

প্রসঙ্গত, গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পর থেকেই পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নেওয়া স্থগিত করে দেয় তেহরান।

এদিকে শুক্রবার ইরান ও ইউরোপীয় দেশগুলো (ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন) পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নিতে রাজি হয়েছিল। এর ঠিক পরদিনই খামেনির এই বক্তব্য আসে, যা আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনায় নতুন ধাক্কা দিয়েছে।

ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি হুঁশিয়ারি দিয়েছে—তেহরান আলোচনায় না ফিরলে তারা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের জন্য ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা চালু করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। তবে ইরানের দাবি, তারা কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি উন্নয়নে কাজ করছে।
 

Walton Ads