ইউরোপে মাদক পাচারের বড় কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে ইসরায়েল—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটিরই জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল চ্যানেল ১২। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে মাদকের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল থেকে পাচারের প্রবণতাও হু হু করে বাড়ছে।
পার্সটুডের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা একাধিক নেটওয়ার্ক এই পাচারের সঙ্গে জড়িত। বছরে তারা আয় করছে লাখ লাখ শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা)। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অনভিজ্ঞ তরুণ-তরুণী, বেকার যুবক, এমনকি অবসরে যাওয়া সেনাদেরও।
চোরাকারবারীরা প্রলোভন দেখায় বিদেশ ভ্রমণ, হোটেলে বিলাসবহুল থাকা এবং প্রতিটি ট্রিপের জন্য কয়েক হাজার শেকেলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু বাস্তবে বিপদ পোহাতে হয় কুরিয়ারদেরই। ইউরোপে ধরা পড়লেই তাদের বছরের পর বছর কারাভোগ করতে হয়। নেটওয়ার্কের আসল মালিকরা নিরাপদে থেকে বিপুল মুনাফা তুললেও সামান্য লাভের আশায় কুরিয়ারদের দিতে হয় চড়া মূল্য।
দক্ষিণ ইসরায়েলের শেফেলাহ এলাকার এক অভিজ্ঞ মাদক পাচারকারী স্থানীয় মিডিয়াকে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে তিনি ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র ও ডেনমার্কে শত শত কেজি মাদক পাচার করেছেন। প্রতিটি চোরাচালানে তিনি পেয়েছেন প্রায় ৮ হাজার শেকেল, বিমান টিকিট, হোটেল খরচ আর কিছু ইউরো।
ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ আরও জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলোতে মাদক পাচারের অভিযোগে একের পর এক ইসরায়েলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেমন—তুরস্কে ড্যানিয়েল ওকাকে ধরা হয় এবং দেওয়া হয় ১০ বছরের কারাদণ্ড। ২০২৩ সালের মার্চে চিন আল-কাইমকে ফরাসি বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয় কয়েক কেজি মাদকসহ।
ইউরোপে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ইথিওপিয়ান উৎপাদিত এক ধরনের ড্রাগের। প্রায় পাঁচটি বড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ইসরায়েলের ভেতরে সক্রিয়, যারা সরাসরি ইথিওপিয়া থেকে এসব পদার্থ আমদানি করে এবং ইউরোপে পাচার করে। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কেনা ওই মাদক ইউরোপে প্রতি কেজি ২০০ ইউরোতে বিক্রি হয়। এই ব্যবসা থেকেই বছরে লাখ লাখ শেকেল মুনাফা করছে নেটওয়ার্কের মালিকরা।
আরও জানা গেছে, পাচারকারীরা একসঙ্গে ডজনখানেক কুরিয়ার নিয়োগ দেয়। প্রতিটি ট্রিপের জন্য অফার করা হয় ৫,০০০ থেকে ৯,০০০ শেকেল পর্যন্ত। যাদের ইউরোপীয় পাসপোর্ট আছে, তারা পায় অতিরিক্ত বোনাসও।