রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে ইউক্রেনকে একাধিকবার বাধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি ঘটেছে বসন্তের শেষ দিক থেকে। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শান্তি আলোচনায় সম্পৃক্ত করতে চাইছিল—এ কারণেই ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে এমন হামলা থেকে বিরত রাখে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগন ইউক্রেনকে মার্কিন তৈরি আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (ATACMS) ব্যবহারে বাধা দেয়। অন্তত একবার ইউক্রেন এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে চাইলেও পেন্টাগনের নীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কলবি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুযায়ী, মার্কিন তৈরি দূরপাল্লার অস্ত্র বা মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের উপর নির্ভরশীল ইউরোপীয় মিত্রদের অস্ত্র কোথায় ব্যবহার করা যাবে—তা যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করে। ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও এই নিয়ন্ত্রণের আওতায়, কারণ সেগুলোও মার্কিন ডেটার উপর নির্ভরশীল।

পেন্টাগনের নীতি অনুযায়ী, অ্যাটাকমস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৩০৫ কিলোমিটার। গত নভেম্বরে উত্তর কোরিয়ার সেনারা যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

ট্রাম্পের বিরোধিতা
জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প টাইম ম্যাগাজিন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভেতরে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া একটি “বড় ভুল” ছিল।

ট্রাম্পের ভাষায়:
“রাশিয়ার ভেতরে শত শত মাইল দূরে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো আমি সমর্থন করি না। কেন আমরা এটা করছি? এতে যুদ্ধ আরও বাড়বে, আরও ভয়াবহ হবে। এই অনুমতি দেওয়া উচিত হয়নি।”

নতুন প্রশ্ন উঠছে
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এই নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিক নীতি পরিবর্তন কিনা তা পরিষ্কার নয়। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি মূলত ইউক্রেনের কাছে যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের উপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত। কারণ, গত এক বছরে ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন অস্ত্রের মজুদ অনেকটাই কমে গেছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ট্রাম্প খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, “ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি প্রয়োজন। আপাতত রাশিয়া-ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
 

Walton Ads