ইয়েমেনের রাজধানী সানা আবারও পরিণত হলো রণক্ষেত্রে। রোববার ২৪ আগস্ট ভোররাতে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান হুথি-নিয়ন্ত্রিত বেশ কয়েকটি স্থাপনায় একের পর এক বোমা বর্ষণ করে। এতে অন্তত দু’জন নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সাবা জানিয়েছে, হামলার টার্গেটে ছিল প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের ভেতরে একটি সামরিক ঘাঁটি, দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র। আকাশ থেকে চালানো এই আকস্মিক বোমাবর্ষণে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় স্থাপনাগুলো। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হুথিদের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা একাধিকবার ইসরাইলি ভূখণ্ডের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। শুক্রবারই তারা ঘোষণা দিয়েছিল, গাজার প্রতি সংহতি জানাতে ইসরাইলের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা।
ইসরাইলি বিমানবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আরও জানান, সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটিতে সম্ভবত একাধিক সাব-মিউনিশন বহন করা হয়েছিল, যা আঘাতের পর ছড়িয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি। তাঁর দাবি, ইয়েমেন থেকে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এটাই প্রথম ঘটনা।

কিন্তু ইসরাইলের হামলা থামাতে পারেনি হুথিদের। গাজার পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে হুথি নেতা আবদুল কাদির আল-মুরতাদা বলেছেন, “ইসরাইলকে স্পষ্ট বুঝতে হবে, আমরা আমাদের গাজার ভাইদের কোনোদিনই একা ফেলে দেব না। এর জন্য যত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, আমরা প্রস্তুত।” তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, হুথিদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রদর্শনে তাদের অবস্থান অটল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা শুধু ইয়েমেন নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও উসকে দেবে। একদিকে গাজার যুদ্ধ, অন্যদিকে ইয়েমেনের নতুন ফ্রন্ট—সব মিলিয়ে ইসরাইল নিজেকে একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে ফেলছে। হুথিদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হলে তা সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্কের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।
 

Walton Ads