শিয়ার গুপ্তচর সাবমেরিনের তথ্য প্রকাশ করলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্বের অন্যতম সামরিক পরাশক্তি আবারও তাদের শক্তি দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিল আন্তর্জাতিক মহলকে।
গত শুক্রবার ২২ আগস্ট মস্কোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর সারোভে পারমাণবিক খাতের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন জানান, রাশিয়ার আধুনিক কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন এখন আর্কটিক মহাসাগরের বরফের নিচে লুকিয়ে রাডারের চোখ এড়িয়ে চলাচল করতে পারে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের সাবমেরিনগুলো বরফের নিচে অদৃশ্য হয়ে যায়, আর এটাই আমাদের বড় সামরিক সুবিধা।”
তিনি আরও বলেন, আর্কটিক অঞ্চল এখন রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনে বরফ গলছে, নতুন নৌপথ ও শিপিং রুট তৈরি হচ্ছে—যা রাশিয়ার জন্য বাণিজ্যিক ও সামরিক দিক থেকে বিশাল সুযোগ এনে দিচ্ছে। পুতিনের দাবি, এই রুটগুলো রাশিয়াকে প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে এবং বিশ্বের বহু দেশ এসব রুট ব্যবহার করতে মুখিয়ে আছে।
রাশিয়া বর্তমানে একমাত্র দেশ, যাদের কাছে পারমাণবিক শক্তিচালিত আইস ব্রেকার নৌবহর রয়েছে। যা তাদের আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে।
২০০০ সালের পর থেকে রাশিয়া তৈরি করেছে আটটি বোরেই শ্রেণীর পারমাণবিক সাবমেরিন। সর্বশেষ সাবমেরিন ‘কনিয়াজ পোঝারস্কি’ গত বছর পানিতে নামানো হয়। এছাড়া আরও দুটি সাবমেরিন নির্মাণাধীন। এসব সাবমেরিনে বসানো হয়েছে বুলভা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা সর্বোচ্চ ৮ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আর্কটিকে রাশিয়ার আধিপত্য এবং পারমাণবিক সাবমেরিনের এই শক্তি বৃদ্ধি বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে চলেছে।