উত্তর কোরিয়া আবারও বিশ্বকে চমকে দিল। দেশটি জানিয়েছে, তারা সফলভাবে দুটি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। রবিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, নিজে উপস্থিত থেকে পুরো পরীক্ষার তদারকি করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।
মজার ব্যাপার হলো—এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এমন সময় চালানো হলো, যখন সোমবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের মধ্যে হচ্ছে বহুল আলোচিত বৈঠক। তাই অনেকে মনে করছেন, উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ আসলে বৈঠকের আগে এক ধরনের ‘শক্তি প্রদর্শন’।
কেসিএনএ জানিয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর যুদ্ধক্ষমতা আরও উন্নত এবং এতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। যদিও অস্ত্রগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য এগুলো দারুণ কার্যকর।
সামরিক উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ এই পরীক্ষা আরও আলোচনায় এনেছে কোরীয় উপদ্বীপকে। কারণ কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রায় ৩০ জন উত্তর কোরিয়ার সেনা ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) অতিক্রম করেছিল। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কতামূলক গুলি চালায়। ঘটনাটি জাতিসংঘ কমান্ডও নিশ্চিত করেছে।
এরপরই পিয়ংইয়ং অভিযোগ তোলে, দক্ষিণ কোরিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিচ্ছে। অন্যদিকে সিউল জানাচ্ছে, গত সোমবার থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশাল যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। আর সেই মহড়াকে কেন্দ্র করেই দুই কোরিয়ার সীমান্তে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আসলে শুধু সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বটে।