গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে কিছু সামরিক সাফল্য পেলেও কূটনৈতিকভাবে ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একসময় যেসব পশ্চিমা দেশ তাঁকে শক্ত সমর্থন দিত, তারাই এখন গাজার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে।

শনিবার ২৩ আগস্ট রুশ গণমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, ইসরাইলের সামরিক অভিযান যত গভীর হচ্ছে, নেতানিয়াহু ততই মিত্র হারাচ্ছেন।

হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর শুরুতে পশ্চিমা দুনিয়া ইসরাইলের পাশে দাঁড়ালেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা বদলে যায়। গাজায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়। স্পেন, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ডসহ অন্তত ১৫টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুলিয়ে রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফ্রান্স তো ইতিহাস গড়ে প্রথম জি৭ দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহু ও তাঁর সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছে। কিন্তু উল্টো নেতানিয়াহুই ইউরোপীয় নেতাদের ‘সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা’ বলে অভিযোগ করেছেন।

মানবিক সংকট ভয়াবহ রূপ নেয় ২০২৫ সালের মার্চে, যখন ইসরাইলের প্রায় পূর্ণ অবরোধে গাজায় খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানোই বন্ধ হয়ে যায়। পশ্চিমা গণমাধ্যম সরাসরি ইসরাইলকে দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী করে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর ওপর চটে যান। ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—খাদ্য সরবরাহ বন্ধের অজুহাত তিনি শুনতে চান না।
তবুও ইউরোপ কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু মনে করছেন শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প তাঁকে ত্যাগ করবেন না। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ইসরাইলের কূটনৈতিক নিঃসঙ্গতা ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক সাফল্য দিয়ে হয়তো গাজায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ দেখাতে পারছে ইসরাইল, কিন্তু কূটনৈতিক দিক থেকে নেতানিয়াহু দেশকে ঠেলে দিচ্ছেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে—যেখানে শর্তহীন সমর্থন পাওয়া আর সম্ভব নাও হতে পারে।
 

Walton Ads