আমেরিকার বিজ্ঞানের ইতিহাসের এক ভয়ংকর অধ্যায় হলো গুয়াতেমালার "৫,০০০ ল্যাব ইঁদুর" কাহিনি। কিন্তু এই ইঁদুর আসলে মানুষ—যাদের উপর নির্দয় পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। বর্ণবাদ আর বৈষম্যের কারণে মার্কিন গবেষকরা গরিব, বন্দী, নারী ও মানসিক রোগীদের জোর করে পরীক্ষার শিকার বানান।

অমানবিক গবেষণার অন্ধকার অধ্যায়

১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে মার্কিন গবেষক ড. জন চার্লস কার্টারের নেতৃত্বে গুয়াতেমালায় এক গোপন পরীক্ষা চালানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসায় পেনিসিলিন কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা। এ জন্য বন্দী, যৌনকর্মী, মানসিক রোগী ও সৈনিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে সিফিলিস ও গনোরিয়ায় সংক্রামিত করা হয়—কোনও অনুমতি ছাড়াই।

গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ১,৩০০ মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা জানতেন না কেন তাদের শরীরে এমন পরীক্ষা চালানো হচ্ছে বা এর ঝুঁকি কী। এটি পরবর্তীতে চিকিৎসা নীতি ও মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃত হয়।

দেরিতে ধরা পড়া সত্য ও বিশ্ব ক্ষোভ

২০১০ সালে এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে। তখন গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট আলভারো কলম একে "মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ" ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন।

২০১১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমা চান। তবে সমালোচকরা বলেন, এটি যথেষ্ট নয়—কারণ ভুক্তভোগীরা আজও ক্ষতিপূরণ পাননি।

সম্পর্কের ভাঙন ও বৈজ্ঞানিক বিশ্বে প্রভাব

এই ঘটনা শুধু চিকিৎসা ইতিহাস নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককেও নাড়া দিয়েছিল। প্রকাশের পর ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার প্রতি সন্দিহান হয়ে ওঠে। জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের প্রশ্নে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো পরে গবেষণায় অবহিত সম্মতি (Informed Consent) বাধ্যতামূলক করার দাবি তোলে। এর পর থেকেই বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কঠোর নৈতিক নিয়মকানুন গড়ে ওঠে।

✅ গুয়াতেমালার এই অমানবিক পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক ভাবমূর্তিকে বড় আঘাত করেছিল। বিশ্বজুড়ে এটি এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে—মানুষকে কখনোই গবেষণার ল্যাব ইঁদুরে পরিণত করা যাবে না।

 

Walton Ads