শ্রীলঙ্কা ভয়াবহ অর্থনৈতিক ধস কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে নিয়েছে ভিন্নধর্মী কৌশল। এবার পর্যটন নির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশটি বাজি ধরেছে ক্যাসিনো শিল্পে। রাজধানী কলম্বোর সমুদ্রতটে উদ্বোধন হলো দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে প্রথম সমন্বিত ক্যাসিনো রিসোর্ট ‘সিটি অব ড্রিমজ’।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ বছর পর্যটক আগমন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে আয় হতে পারে ৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ক্ষমতায় আসেন দেশটির প্রথম মার্ক্সবাদী প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। ক্ষমতার এক বছর পূর্তির প্রাক্কালে তিনি ১.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই রিসোর্ট উদ্বোধন করেন।
‘সিটি অব ড্রিমজ’-এ রয়েছে ৮০০ কক্ষ, বিলাসবহুল শপিং মল ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। এটি যৌথভাবে নির্মাণ করেছে শ্রীলঙ্কার জন কিলস হোল্ডিংস ও ম্যাকাওভিত্তিক মেলকো রিসোর্টস। উদ্বোধনীতে বলিউড তারকা হৃতিক রোশনও উপস্থিত ছিলেন।
পর্যটনমন্ত্রী রুয়ান রানাসিংহে জানিয়েছেন, এখন লক্ষ্য বেশি সংখ্যক পর্যটক টানা। তবে দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য উচ্চমানের ও টেকসই পর্যটন। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার জিডিপির ৪ শতাংশ আসে পর্যটন থেকে, সরকার আশা করছে এটি বাড়বে ১০ শতাংশে।
২০২৩ সালে দেশটির অর্থনীতি আবার প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৫ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। তবে ২০২৮ সাল থেকে বৈদেশিক ঋণ শোধ শুরু করতে হবে, কারণ ২০২২ সালে দেশটি ঋণ খেলাপি হয়েছিল।
মেলকো রিসোর্টসের চেয়ারম্যান লরেন্স হো মনে করেন, এই প্রকল্প নতুন বাজার উন্মোচন করবে। তিনি বলেন, “এখনও আমরা পর্যটন ও ক্যাসিনো শিল্পের সম্ভাবনার সামান্যই ছুঁতে পেরেছি।”
সরকারের আশা, আগামী এক দশক ভারতের পর্যটকরাই হবে মূল ভরসা। গত বছর শ্রীলঙ্কায় আসা ২০ লাখ পর্যটকের মধ্যে এক-চতুর্থাংশই ছিলেন ভারতীয়, আর ৭ শতাংশ ছিলেন চীনা। দুই দেশের জন্য ভিসামুক্ত সুবিধাও কার্যকর আছে।
এদিকে শিল্পকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংসদে পাস হয়েছে ‘গ্যাম্বলিং রেগুলেটরি অথোরিটি আইন’। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এতে অর্থমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং শাস্তির পরিমাণও কম। সরকার অবশ্য দাবি করছে, এই আইন শিল্পকে শৃঙ্খলায় রাখতে ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে।
পর্যটন ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্যাসিনো শিল্প সেই আয়কে আরও বহুগুণে বাড়াতে সক্ষম হবে।