লেবাননের শীর্ষ সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ একেবারেই স্পষ্ট করে দিয়েছে—যত চাপই আসুক না কেন, তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না। সোমবার বৈরুত থেকে দেওয়া এক ভাষণে সংগঠনের মহাসচিব নাঈম কাসেম ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে কড়া বার্তা দেন।
তিনি বলেন, “লেবাননের প্রকৃত সার্বভৌমত্ব তখনই নিশ্চিত হবে, যখন ইসরায়েল আগ্রাসন বন্ধ করবে এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত মানবে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির কথা তুলে ধরে কাসেম বলেন, ইসরায়েলকে প্রথমে সেই শর্ত মানতে বাধ্য করতে হবে লেবানন সরকারকে। তার আগ পর্যন্ত কোনো জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে আলোচনায় রাজি নয় হিজবুল্লাহ।
নাঈম কাসেম আরও যোগ করেন, “আমাদের প্রতিরোধ শক্তি সবসময় ইসরায়েলের সামনে এক অটল দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে। ইসরায়েল লেবাননে তার আধিপত্য বা সম্প্রসারণবাদী পরিকল্পনা কখনোই সফল করতে পারবে না।
সম্প্রতি লেবানন সরকার ও বিদেশি মিত্রদের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডারকে জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে হিজবুল্লাহ প্রধান সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, প্রথমে ইসরায়েলকে দখলকৃত এলাকা ছাড়তে হবে, বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে এবং হামলা বন্ধ করতে হবে।
তার ভাষায়, “যদি সত্যিই সার্বভৌমত্ব চান, তবে আগ্রাসন থামান। আমরা সেই অস্ত্র ছাড়ব না, যেগুলো আমাদের সম্মান রক্ষা করে এবং শত্রুর হাত থেকে বাঁচায়।”
লেবাননের সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে সেনাবাহিনীকে চলতি বছরের শেষ নাগাদ হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা করতে বলা হয়। এই পদক্ষেপ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে, যেখানে ইসরায়েলকে কিছুটা ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—এ সিদ্ধান্ত তাদের কাছে “অস্তিত্বহীন”।
সবশেষ অবস্থান থেকে স্পষ্ট, হিজবুল্লাহ কোনোভাবেই অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয়। বরং প্রতিরোধ শক্তিকে আরও জোরদার করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কৌশলেই অটল রয়েছে সংগঠনটি। আর এ কারণেই লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।