মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। ইসরায়েলের সঙ্গে টানটান সংঘাতের পর এবার সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। রোববার সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও কর্নেল (অব.) ড. জ্যাক নেরিয়াহ। তার দাবি, সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হিজবুল্লাহকেও যুদ্ধে নামার নির্দেশ দিয়েছে।
রেরিয়াহ এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, সাম্প্রতিক দিনে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। তার মতে, এটি আসন্ন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত। তিনি আরও স্পষ্টভাবে বলেন, “একটি যুদ্ধ আসছে। ইরান এই অপমান সহ্য করবে না, প্রতিশোধ নিতেই হবে।”
এর পাশাপাশি তিনি সিরিয়া প্রসঙ্গও টেনে আনেন। নেরিয়াহ জানান, সিরিয়া ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তি পুনর্নবীকরণে আগ্রহ দেখাচ্ছে। নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাহ হিজবুল্লাহর অস্ত্র চালান আটকে দিচ্ছেন এবং গোষ্ঠীটির পুনর্গঠন ঠেকাচ্ছেন। তার মতে, এটি ইসরায়েলের প্রতি সিরিয়ার সদিচ্ছার প্রমাণ। নেরিয়াহ বলেন, “ভিন্ন পরিস্থিতিতে এই আলোচনা হতো সিরিয়ার সংবাদ শিরোনাম। তবে বাস্তবতা আমাদের বাধ্য করছে নিরাপত্তা চুক্তির দিকে অগ্রসর হতে। এটি দুই দেশের জন্যই বড় কৌশলগত পদক্ষেপ।
তিনি আরও দাবি করেন, আসাদ সরকারের পতনের পর হিজবুল্লাহর প্রভাব ভেঙে পড়েছে এবং ইরান এখন নতুন সরকারকে নামাতে চাচ্ছে। কিন্তু সিরিয়া ইসরায়েল সীমান্তে স্থিতিশীলতা চায়, যা তেহরানের কৌশলের বিপরীত।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী লড়াইয়ে জাতীয় ঐক্য গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। রোববার তেহরানের এক মসজিদে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “ইরান কখনোই আমেরিকার কাছে মাথা নত করবে না। শত্রুর উদ্দেশ্য হলো আমাদের নিজেদের ইচ্ছায় নয়, বরং ওয়াশিংটনের নির্দেশে চলতে বাধ্য করা।
একই সঙ্গে ইরানের সেনাবাহিনীও জানিয়ে দিয়েছে, শত্রুরা আক্রমণ করলে তারা কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেবে। সোমবার এক বিবৃতিতে সেনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সরকারের পাশে থেকে দেশের নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং ইসলামি বিপ্লবের মূল্যবোধ রক্ষায় প্রতিরক্ষা শক্তি আরও বাড়ানো হবে।
এরই মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে তেহরান। আজ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৈঠক হবে বলে জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। বৈঠকে অংশ নেবে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উপস্থিত থাকবে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে।