মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিসর থেকে পাঠানো সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব হামাস মেনে নিয়েছে, কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ইসরায়েল কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তিনি সব জিম্মিকে মুক্ত করতে এবং যুদ্ধ শেষ করতে ‘অবিলম্বে’ আলোচনা শুরু করছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই নীরবতা ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গিতে মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। মধ্যস্থতাকারী এবং জিম্মিদের পরিবার নেতানিয়াহুর এমন কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, নেতানিয়াহু তাদের প্রিয়জনদের পরিত্যাগ ও ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।
১৮ মাস ধরে শুধু আংশিক ও ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর, নেতানিয়াহু এখন বিস্তৃত চুক্তির দাবি করছেন। এই চুক্তি অনুযায়ী, সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে এবং সম্পূর্ণরূপে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।
এই নীতিগত পরিবর্তন এমন সময়ে এসেছে, যখন নেতানিয়াহু একই সঙ্গে গাজা সিটিতে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছেন। এটি একধরনের দ্বৈত কৌশল, যেখানে তাঁর ভাষায়, হামাসকে পরাজিত করার” লক্ষ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আলোচনাও করছেন।
গত বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, তিনি তার দলকে অবিলম্বে সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার এবং গাজার যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনা শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি বর্তমান প্রস্তাবটির কথা একবারও উল্লেখ করেননি। প্রস্তাবে অর্ধেক জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর মতে, এই প্রস্তাবের শর্তগুলো ইসরায়েলের জন্য আরও অনুকূল ছিল, কারণ হামাস বন্দীদের সংখ্যা ও নিরাপত্তা বিষয়ক ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখিয়েছে। একই সময়ে, নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা সিটিতে ব্যাপক সামরিক হামলা ও দখলের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।
ইসরায়েল মনে করছে, হামাসের এই নমনীয়তার কারণ হলো গাজা সিটিতে আইডিএফের আসন্ন হামলার হুমকি। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাপক সামরিক চাপের এই নতুন হুমকি হামাসকে আরও নমনীয় করে তুলবে এবং যুদ্ধের অবসানের জন্য ইসরায়েলের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করবে।