ফ্রান্স সরকার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারকে তলব করেছে। কারণ, তিনি এক খোলা চিঠিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোকে অভিযুক্ত করেছেন যে, ফ্রান্স দেশটির ভেতরে ইহুদিবিরোধী সহিংসতা রোধে কিছু করছেন না।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিবার জানান, কুশনারের অভিযোগগুলো অগ্রহণযোগ্য এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বিপরীত।

চার্লস কুশনার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ প্রকাশিত খোলা চিঠিতে ফ্রান্সের ইসরায়েলবিরোধী সমালোচনা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি প্রদানের পরিকল্পনাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন।

তিনি লিখেছেন, “ইসরায়েলবিরোধী প্রকাশ্য বক্তব্য ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি পদক্ষেপ চরমপন্থীদের উসকে দিচ্ছে, সহিংসতা বাড়াচ্ছে এবং ফ্রান্সে ইহুদিদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আজকের পৃথিবীতে, ইহুদিবিরোধিতা মানেই ইসরায়েলবিরোধিতা।

ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “ফ্রান্স দৃঢ়ভাবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে। রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য।” তারা আরও বলেন, কুশনার আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির পরিপন্থী আচরণ করেছেন, যা মিত্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে।

তবে ওয়াশিংটন কুশনারকে সমর্থন করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “রাষ্ট্রদূত কুশনার ফ্রান্সে আমাদের জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নিতে দারুণ কাজ করছেন।”

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্সসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্টকে লেখা চিঠিতে একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট কার্যালয় নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে নোংরা ও ভুল তথ্যনির্ভর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
 

Walton Ads