ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবকে নীরব দর্শক হিসেবেই দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু এবার ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে রিয়াদ।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসকে অজুহাত বানিয়ে গাজা দখলের যে চেষ্টা করছেন, তার বিরুদ্ধে বিশ্বকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি রাজপরিবার। শুধু তাই নয়, “গ্রেটার ইসরাইল” গঠনের পরিকল্পনাকেও সরাসরি নিন্দা করেছে তারা। একইসাথে গাজার অবরোধ ভাঙার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সোমবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, ইসরাইল গাজা উপত্যকার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে যে পরিকল্পনা সাজিয়েছে, তা বিশ্বকে অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—মানবিক কারণেই পশ্চিম তীরে অবরোধ ভাঙতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত সৌদি আরব। নেতানিয়াহুর তথাকথিত “গ্রেটার ইসরাইল” পরিকল্পনাকেও তিনি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
এর আগে, গত বুধবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাজ ঘোষণা দেন যে, সেনা অভিযান চালিয়ে গাজা উপত্যকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। এই অভিযান ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলবে বলেও জানানো হয়। কাজের এমন ঘোষণার একদিন পরেই নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
তবে সৌদি আরব এর আগেও কিছুটা অবস্থান নিয়েছিল। গত জুলাইয়ে আল আকসা ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়ে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের দাবি তোলে তারা। সেই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছিল বিশ্বের ১৯টি দেশ, আরব লীগ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই নেতানিয়াহু গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ব্লুপ্রিন্ট প্রকাশ করেন। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে, যদিও প্রতিবাদের তোয়াক্কা না করেই ইসরাইলি সেনারা অভিযানে অগ্রসর হয়।
এদিকে সৌদি আরব প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নিলেও গোপনে ইসরাইলকে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাহাজভর্তি অস্ত্র এনে ইসরাইলকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সৌদি আরব। তবে ইতালির সাহসী বন্দরকর্মীদের কারণে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়।