গাজা যুদ্ধ শেষ করা এবং বন্দি থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্তির দাবিতে আবারো বিক্ষোভ হয়েছে ইসরায়েলে। মঙ্গলবার ভোরে দেশের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। এদিন সন্ধ্যায় নির্ধারিত নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের বৈঠকের আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন, ইসরায়েলি পতাকা নাড়ান এবং বন্দি নাগরিকদের ছবি হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ তেলআবিবে মার্কিন দূতাবাসের একটি শাখা অফিসের সামনে জমায়েত হয়। এছাড়া দেশজুড়ে বিভিন্ন মন্ত্রীর বাসভবনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আগস্টের শুরুতে ইসরায়েলি সরকার গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে নতুন সেনা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা অনুমোদন করায়, বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে ফের বড় পরিসরের বিক্ষোভ শুরু হয়।
হাগিত চেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, “চুক্তির একটি প্রস্তাব টেবিলে রয়েছে। আমরা চাই আমাদের নেতারা আলোচনা টেবিলে বসুন এবং সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে উঠবেন না।” তার ছেলে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হাতে অপহৃত হন। এই বক্তব্যটি বন্দিদের পরিবারের একটি ফোরামের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের বৈঠকে কী আলোচনা হবে তা সরকারিভাবে জানা যায়নি, তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের ধারণা, বন্দি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য নতুন চুক্তি নিয়েই আলোচনা হতে পারে।
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, গাজায় আটক সব বন্দিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে দ্রুত আলোচনা শুরু করতে হবে। তবে এর পাশাপাশি তিনি গাজার সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটিতে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন।