যুক্তরাষ্ট্র আবারো দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান এলাকায় নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্রিয় হয়েছে। এবার ভেনেজুয়েলার উপকূলে মোতায়েন করা হচ্ছে বড় সংখ্যক সামরিক জাহাজ ও বিমান। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই অভিযান মূলত মাদকচক্র দমন এবং গোয়েন্দা নজরদারির উদ্দেশ্যে।
মার্কিন নৌবাহিনী পাঠাচ্ছে তিনটি এজিস গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস গ্রেভলি, ইউএসএস জেসন ডানহাম ও ইউএসএস স্যামসন। সঙ্গে থাকবে পি-৮ গোয়েন্দা বিমান, একটি অ্যাটাক সাবমেরিন এবং কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ। সবমিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার নৌসদস্য অংশ নেবেন এই অভিযানে। শুধু নজরদারি নয়, প্রয়োজনে নির্দিষ্ট স্থানে হামলাও চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকবে এই বাহিনী।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলার মাদকচক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এটি একটি ধারাবাহিক পদক্ষেপ। একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযান কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই পদক্ষেপকে তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি একে দেশটির শাসন পরিবর্তনের অবৈধ ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “শাসন পরিবর্তনের নামে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে সামরিকভাবে আক্রমণ করছে। এটি শুধু ভেনেজুয়েলার নয়, পুরো লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবি অঞ্চলের বিরুদ্ধে আগ্রাসন।”
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মাদুরো ও ভেনেজুয়েলার কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর জন্য গ্রেপ্তারের পুরস্কার ৫০ মিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি করেছে।
মাদুরো ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলায় ৪.৫ লাখ মিলিশিয়া সদস্য মোতায়েন করবেন। পাশাপাশি দেশব্যাপী বিক্ষোভেরও আহ্বান দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক মোতায়েন আবারো উত্তেজনা ছড়িয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবি অঞ্চলে।