উত্তর কোরিয়া আবারও বিশ্বকে চমকে দিল। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক মন্দা ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরও দেশটি নতুন নতুন অস্ত্র বানিয়ে যাচ্ছে। এবার রাশিয়ার সহায়তায় এমন এক মিসাইল তৈরি করেছে, যা নাকি মার্কিন অত্যাধুনিক স্টেলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে সক্ষম।

পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত শনিবার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য দুই ধরনের নতুন মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় দুটি ড্রোন এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া দুটি ক্রুজ মিসাইলকে সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি উত্তর কোরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।
কিম জং উনের সরকার দাবি করছে—এই নতুন মিসাইলে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে এবং নির্ভুলভাবে টার্গেট ভেদ করতে সক্ষম। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি উত্তর কোরিয়ার পুরনো কে-এন০৬ সিস্টেমের চেয়ে অনেক উন্নত। ধারণা করা হচ্ছে, এতে উন্নত রাডার নির্ভর বা দ্বৈত মোড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারবে।
এদিকে মিসাইল পরীক্ষার পাশাপাশি রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতাও বাড়ছে। জানা গেছে, মস্কো ইতোমধ্যে পিয়ংইয়ংকে প্যান্টসির এস-ওয়ান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েছে। এগুলো উত্তর কোরিয়ার নৌজাহাজ ও রাজধানীর আশপাশে স্থাপন করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রধান কিরিলু বোদানফ আগেই জানিয়েছিলেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কে-এনটু ব্যালিস্টিক মিসাইলের ত্রুটি সংশোধনে সহায়তা করেছে। এর ফলে ওই মিসাইলের নির্ভুলতা বেড়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া হয়তো ইরানের শাহেদ-১৩৬ মডেলের মতো ড্রোন তৈরিতেও উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা করবে।

এই মিসাইল পরীক্ষা এমন এক সময় হলো, যখন পিয়ংইয়ং একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্মেলনে কিম জং উন দেশের সামরিক শক্তির সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরবেন।
অন্যদিকে, কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে—রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এ কারণেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ মহড়া চালাচ্ছে।

Walton Ads