ইরাক সরকার নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআইএসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাশিয়া, তুরস্ক ও আজারবাইজানের শত শত নাগরিককে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এদের কেউ সরাসরি আইএসআইএসের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, আবার কেউ সংগঠনের সদস্যদের পরিবারভুক্ত।
ইরাকের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৬২৫ জন বিদেশি এবং তাদের ৬০ জন সন্তান বন্দি। অধিকাংশের বিরুদ্ধে আইএসআইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে। তবে যারা সরাসরি হত্যাযজ্ঞ বা গণহত্যার মতো অপরাধে জড়িত নয়, তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
২০১৪ সালে মসুল দখলের সময় প্রায় ৫০০ বিদেশি জঙ্গি সিরিয়া ও ইরাকে প্রবেশ করে। তারা আইএসআইএসের “খিলাফত” প্রতিষ্ঠায় যোগ দেন। অনেকেই ইয়াজিদি সংখ্যালঘুদের ওপর গণহত্যা এবং নারীদাসে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে আইএসআইএস পরাজিত হওয়ার পর তাদের বড় অংশ ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। সিরিয়ার শিবিরগুলোতেও, যেমন বিখ্যাত আল-হোল শিবিরে, এখনও হাজারো আইএসআইএস পরিবার আটক রয়েছে।
বিদেশি সরকারগুলো তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে অনিচ্ছুক। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলো গত আট বছর ধরে এ দায়িত্ব এড়িয়ে চলেছে। ফলে বন্দিদের দেখাশোনার পুরো চাপ ইরাক ও সিরিয়ার ওপর পড়ে। ইরাক বলেছে, কারাগারে ভিড় সামলানো সম্ভব নয়, তাই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নাগরিকদের ফেরত নিতে এগিয়ে আসতে হবে।
কূটনীতিকরা সতর্ক করেছেন, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু ইরাক নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিদেশি নাগরিকদের প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকলে ভবিষ্যতে নতুন জঙ্গিবাদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।