হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় দফায় শপথ নেওয়ার একদিন পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেছিল। তখনই ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানিয়েছিলেন, বছরের শেষ দিকে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি ভারত সফরে আসবেন। কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— সেই সফর এখন অনিশ্চিত, শরৎকালে তাঁর আর ভারত ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা নেই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে ট্রাম্পের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাতের সময় বারবার মধ্যস্থতার দাবি তোলায় মোদি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। যদিও ভারত সরকার শুরু থেকেই এই দাবি অস্বীকার করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ১৭ জুন মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে ৩৫ মিনিটের ফোনালাপে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর আগে কানাডায় জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে তাদের দেখা হওয়ার কথা থাকলেও, ট্রাম্প তাড়াহুড়ো করে ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদি ক্রমেই ট্রাম্পের প্রতি ধৈর্য হারাচ্ছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কিংবা ভারত-পাকিস্তান আলোচনায় আমেরিকার কোনো মধ্যস্থতার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত কখনোই কোনো বাইরের মধ্যস্থতা গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। ভারত-পাকিস্তানের সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছিল দুই দেশের সেনাবাহিনীর সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই।

এখন প্রশ্ন উঠছে— কোয়াড সম্মেলন কি পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে, নাকি ট্রাম্পের সফর স্থগিত হওয়ায় নতুন করে অচলাবস্থায় পড়বে এই আঞ্চলিক জোট? বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা ভারত-মার্কিন সম্পর্কে নতুন ধাক্কা বয়ে আনতে পারে।

 

Walton Ads