ইয়েমেনের রাজধানী সানার রাস্তাজুড়ে নেমে এসেছিল অশ্রু আর শোকের বন্যা। হাজারো সাধারণ মানুষ আর সশস্ত্র হুথি যোদ্ধা ভিড় করেছিলেন মৃত প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল গালিব রাহাবি ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের শেষ বিদায় জানাতে।
গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলি বিমান হামলায় তারা নিহত হন। ইসরাইল প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী একে হুথিদের বিরুদ্ধে “কঠোর আঘাত” বলে বর্ণনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর পর হুথি নেতৃত্বে বড় শূন্যতা তৈরি হলেও দায়িত্ব নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আহমেদ মিফতা।

হুথি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি ঘোষণা দিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পরও তাদের লড়াই থামবে না। তিনি বলেন,
“সবভাবে আমরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবো। ফিলিস্তিনের ভাইদের রক্ষায় আমাদের পবিত্র যুদ্ধ চলবে।”
হত্যার কয়েক দিনের মধ্যেই হুথিরা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সোমবার তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লেবাননের পতাকাবাহী একটি ইসরাইলি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা UKMTO এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আরেকটি ঘটনায়। রাজধানী সানায় জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি (WFP) অফিসে ঢুকে হুথি সদস্যরা ১১ জন কর্মীকে অপহরণ করেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, অস্ত্রের মুখে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে কেন তাদের জিম্মি করা হয়েছে সে বিষয়ে হুথির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী হত্যার পরও হুথিদের প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং জাতিসংঘ কর্মীদের অপহরণ—সব মিলিয়ে ইয়েমেনে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হচ্ছে। স্পষ্ট হচ্ছে, ইসরাইলের সঙ্গে এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই।
 

Walton Ads