জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনঃপ্রবর্তনের (স্ন্যাপব্যাক) পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তান সরাসরি অবস্থান নিয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, এই বিরোধিতা ইরানের প্রতি তাদের শক্তিশালী সংহতির প্রতীক।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর ২৫তম সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ঘারিবাবাদি জানান, ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে পরামর্শের জন্য এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীন-রাশিয়া-পাকিস্তানের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান
তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া এবং অস্থায়ী সদস্য পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে একমত হয়ে স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া ও বাতিল করা নিষেধাজ্ঞা পুনঃপ্রবর্তনের বিরোধিতা করছে।
ঘারিবাবাদি জানান, ইরানের প্রস্তাবনা SCO সম্মেলনের ঘোষণায় প্রতিফলিত হয়েছে। ঘোষণার একাধিক ধারায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডকে নিন্দা জানানো হয়েছে—বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগ সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউরোপের সমালোচনা
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রেজোলিউশন ২২৩১ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে, শুধু নির্বাচিত অংশ নয়। ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে শুধু ‘স্ন্যাপব্যাক’ বিধি কার্যকর করতে পারে না।
ঘারিবাবাদি কড়া সমালোচনা করে বলেন, “ইউরোপের পাঠানো নোটিফিকেশন অবৈধ ও আইনি ভিত্তিহীন। কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা আইনের ভিত্তিতে নয়, রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করছে।”
তিনি ইউরোপকে সতর্ক করে বলেন, ২০-৩০ দিনের যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ভুল সংশোধন না হলে ইরান কঠোর ও সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

ইউরোপের পদক্ষেপ ও ইরানের হুঁশিয়ারি
ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি জাতিসংঘে চিঠি পাঠিয়ে স্ন্যাপব্যাক চালু করেছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র JCPOA থেকে সরে যাওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ইরান বলছে, ইউরোপ নিজের দায় এড়িয়ে নিষেধাজ্ঞা পুনঃপ্রবর্তনের অধিকার রাখে না। তারা সতর্ক করেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-র সঙ্গে সহযোগিতা দুর্বল করবে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং কঠোর প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে।
 

Walton Ads