ভারতীয় পণ্যের ওপর বাড়তি রপ্তানি শুল্ক আরোপ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানায়, হোয়াইট হাউস চাইছে ইইউ যেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং রাশিয়া থেকে তেল-গ্যাস আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে।

এর পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অভিযোগ তুলে ভারত ও চীনের ওপরও উচ্চ শুল্ক বসানোর দাবি তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্র জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ইইউ নেতাদের অবস্থান নিয়ে ক্রমেই অধৈর্য হয়ে উঠছে ওয়াশিংটন। গত ১৫ আগস্ট আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে পুতিন দাবি করেন—ক্রিমিয়া ও ইউক্রেনের চার প্রদেশ (দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজ্জিয়া ও খেরসন) রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

ট্রাম্প এই শর্তে সম্মত হলেও ইইউ নেতারা এখনো মানতে রাজি হননি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এক্সিওস-কে বলেন, “ইইউ নেতারা চাইছে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হোক, আর এর খরচ বহন করুক যুক্তরাষ্ট্র। তারা একদিকে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, আবার অন্যদিকে ভারত ও চীনের মাধ্যমে রাশিয়ার তেল কিনছে।”আগস্টের শুরুতে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যে বাড়তি ২৫% শুল্ক বসায়। এতে মার্কিন বাজারে ভারতের রপ্তানি পণ্যের মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০%-এ। নতুন এ শুল্ক কার্যকর হয়েছে ২৭ আগস্ট থেকে।

অতিরিক্ত শুল্কের চাপ থেকে বাঁচতে এখন ইউরোপেই বিকল্প বাজার খুঁজছে ভারত। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত যাতে নতুন বাজার না খুঁজে পায়, সেজন্যই ইউরোপীয় দেশগুলোকে চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
 

Walton Ads