নেপালে টানা বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রভাব এবার সীমান্তে গিয়ে ঠেকেছে। সতর্ক অবস্থানে গেছে ভারত। সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, যাতে প্রতিবেশী দেশের অস্থিরতা কোনোভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে ছড়িয়ে না পড়ে। দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) নিশ্চিত করেছে, সীমান্তজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) হাজার হাজার যুবক নেপালের পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণ ও সরকারি দুর্নীতির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। এই ঘটনার পরই সীমান্ত অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।
ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসএসবির এক কর্মকর্তা বলেন, “নেপালের চলমান বিক্ষোভকে সামনে রেখে ভারত-নেপাল সীমান্তে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি আরও জানান, এই সতর্কতা মূলত পূর্বসতর্কতামূলক, এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন চৌকিতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
ভারত-নেপাল সীমান্ত প্রায় ১ হাজার ৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা উত্তরাখণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। দুই দেশের নাগরিকদের অবাধ যাতায়াত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, প্রতিবেশী দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে।
এসএসবি আশ্বস্ত করেছে, যেকোনো মূল্যে অস্থিরতার প্রভাব ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।