ভৌগোলিকভাবে ছোট হলেও মধ্যপ্রাচ্যে কাতারের প্রভাব অনেক বড়। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ, হুথি হামলা এবং ইরান-সৌদি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো সংকটে দোহা বারবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গাজা সংকট নিরসনে কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

বিমান বাহিনী:
কাতারের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি হলো এর বিমান বাহিনী। হাতে আছে আধুনিক যুদ্ধবিমান—দাসো রাফাল, ইউরোফাইটার টাইফুন এবং এফ-১৫ কিউএ। এরা আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণে সমান কার্যকর। দ্রুত সেনা ও সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য রয়েছে সি-১৭ গ্লোবমাস্টার, সি-১৩০ জে সুপার হারকিউলিস ও বোয়িং ৭৪৭।

নৌবাহিনী:
পারস্য উপসাগরে অবস্থানের কারণে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। নৌবাহিনীতে আছে ইতালীয় ফ্রিগেট, উন্নত টহল জাহাজ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। মূল লক্ষ্য: তেল ও গ্যাস রপ্তানির রুট সুরক্ষিত রাখা।

স্থলবাহিনী:
কাতারের স্থলবাহিনী তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত। আছে লেপার্ড ২এ৭ ট্যাঙ্ক, পিজেড এইচ ২০০০ হাউইজার ও সাজোঁয়া যান। সামরিক কৌশল মূলত প্রতিরক্ষামূলক।

অর্থনীতি ও প্রযুক্তি:
কাতারের শক্তি শুধু অস্ত্রই নয়, অর্থনীতি। কাতার এনার্জি, কিউ টার্মিনালস, বারজান হোল্ডিংস ও বিস্তৃত লজিস্টিক নেটওয়ার্ক সেনা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং অ্যারোস্পেস খাতে বড় বিনিয়োগ করছে।

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব:
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করা কাতার একটি পূর্ণ রাজতন্ত্র। দোহায় আল উদেইদ এয়ারবেসে মার্কিন সেনাদের বড় ঘাঁটি রয়েছে। ফলে কাতার কেবল নিজের নিরাপত্তা নয়, আঞ্চলিক সংকট নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইসরায়েলের সঙ্গে তুলনা:
কাতারের সামরিক শক্তি আধুনিক হলেও ইসরায়েলের তুলনায় ছোট। ইসরায়েলের হাতে আছে শত শত এফ-৩৫ স্টেলথ জেট, আয়রন ডোম, অ্যারো থ্রি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং পারমাণবিক সক্ষমতা।

তবুও কাতারের শক্তি আসে দ্রুত মোতায়নযোগ্য বিমান বাহিনী, শক্তিশালী অর্থনীতি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মিত্র ও মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি থেকে। সরাসরি সংঘাতে ইসরায়েল শক্তিশালী হলেও, কাতারের প্রভাব কূটনৈতিক মধ্যস্থতা, আঞ্চলিক জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন ঘাঁটির কারণে অস্বীকারযোগ্য নয়।

 

Walton Ads