জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দোহায় হামলার পক্ষে ইসরাইলের যুক্তিকে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ ইসরাইলকে আখ্যা দিয়েছেন ‘দখলদার, আগ্রাসী ও আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের অভ্যাসী’ হিসেবে।

তিনি বলেন, “নিজেদের অবৈধ কার্যকলাপ ঢাকতে বিন লাদেন ঘটনার উদাহরণ টেনে আনা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ খবর প্রকাশ করে সামা টিভি।

গত বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কাতার, আলজেরিয়া ও সোমালিয়ার উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে অধিকাংশ দেশ দোহায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানালেও, ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন দাবি করেন— “সন্ত্রাসীদের জন্য কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়, গাজা, তেহরান কিংবা দোহা—সব জায়গাতেই তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে।”

এ বক্তব্যের পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার বলেন,
“ইসরাইল এমন এক দখলদার রাষ্ট্র, যারা কারও কথা শোনে না। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর পরামর্শ, আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশনা কিংবা জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত—সবই উপেক্ষা করে। এর অপকর্মের জন্য যারা আশ্রয় দেয়, তারাই ইসরাইলকে বারবার দায়মুক্তি দেয়।”

তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের অবস্থান সবসময় পরিষ্কার ছিল—সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে দেশটি অগ্রভাগে থেকে লড়েছে এবং আল-কায়েদাকে কার্যত ধ্বংস করেছে।
“যে রাষ্ট্র দখলদারিত্বের নামে গাজায় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে, আসল অপরাধী সেই ইসরাইল,” যোগ করেন তিনি।

এদিকে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় আলোচক দলের আবাসস্থলে ইসরাইলি হামলাকে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ইসরাইল আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশকেই আঘাত করেছে, যা শান্তি প্রচেষ্টাকে বানচাল করার স্পষ্ট চেষ্টা।”

প্রশ্ন রেখে আল-থানি বলেন,
“কোনো রাষ্ট্র কি কখনো মধ্যস্থতাকারীর ওপর এভাবে হামলা চালিয়েছে? যুক্তরাষ্ট্র তালেবান-দোহা আলোচনায় অংশ নিলেও কখনো আলোচকদের ওপর হামলা করেনি। ইসরাইলই একমাত্র ব্যতিক্রম।”

 

Walton Ads