ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চালানো হামলাকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী কমিশন। এ সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনটিকে “ভিত্তিহীন ও বিকৃত” আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

আজ মঙ্গলবার আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারি অন দ্য অকুপাইড প্যালেস্টাইন টেরিটরি-এর চেয়ার নাভি পিল্লাই এ তথ্য জানান।

নেতানিয়াহু-হারজগসহ ইসরায়েলি নেতৃত্বকে দায়ী করা হলো

নাভি পিল্লাই বলেন,
“আমরা ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে চিহ্নিত করেছি তাদের বক্তব্য ও নির্দেশনার ভিত্তিতে। যেহেতু এরা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, তাই আন্তর্জাতিক আইনে দায় ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য—ইসরায়েল রাষ্ট্র গণহত্যা করেছে।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য ছাড়াও বেশ কিছু পরোক্ষ প্রমাণ থেকে গণহত্যার অভিপ্রায় পরিষ্কার হয়েছে।

গাজায় ফিলিস্তিনিদের ‘ধ্বংসের উদ্দেশ্য’

কমিশনের দাবি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণকে সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইনে সংজ্ঞায়িত গণহত্যামূলক পাঁচটি কর্মকাণ্ডের মধ্যে চারটি সংঘটিত হয়েছে ২০২৩ সালে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে। এগুলো হলো:

গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা,

গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করা,

এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে গোষ্ঠী ধ্বংস হয়ে যায়,

জন্মদানের পথ রোধ করা।

তীব্র প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের

জেনেভায় ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত প্রতিবেদনের ফলাফলকে “কেলেঙ্কারিপূর্ণ, ভুয়া ও মানহানিকর” দাবি করেছেন।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, কমিশনের তিন বিশেষজ্ঞ মূলত হামাসের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন এবং তাদের মিথ্যা প্রচারণার ওপর নির্ভর করেছেন।

তারা আরও বলে,
“বাস্তবতা হলো, হামাসই ইসরায়েলে গণহত্যার চেষ্টা করেছে। তারা ১,২০০ মানুষকে হত্যা করেছে, নারীদের ধর্ষণ করেছে, পরিবারগুলোকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে এবং প্রকাশ্যে প্রতিটি ইহুদিকে হত্যার ঘোষণা দিয়েছে।”

 

Walton Ads