ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সম্ভাব্য নতুন ট্যাংক-বিধ্বংসী গাইডেড অস্ত্র এবার প্রকাশ্যে আনল ইরান।
সাধারণত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ইরানের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকে, কিন্তু এবার তারা সার্বিয়ার ‘পার্টনার ২০২৫’ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সামরিক সংবাদমাধ্যম শেফার্ড মিডিয়া জানায়, এই প্রদর্শনীতে ইরান জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, উপকূল ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এমনকি ট্যাংক-বিধ্বংসী গাইডেড অস্ত্র পর্যন্ত এক বিশাল অস্ত্রসাজ নিয়ে হাজির হয়।
প্রদর্শিত ট্যাংক-বিধ্বংসী অনেক ক্ষেপণাস্ত্রই তৈরি হয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি অস্ত্র প্রযুক্তির বিপরীত-প্রকৌশল
ব্যবহার করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের তৈরি ‘তুফান–৫’ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা নেওয়া হয়েছে মার্কিন রায়থিওনের
মিসাইল থেকে, যা ইরানের শাহ আমলের সময় সরবরাহ করা হয়েছিল। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি এখন ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইরান–ইরাকের আট বছরের যুদ্ধের সময় এই ধরনের অস্ত্রের ঘাটতি ছিল, যুদ্ধ শেষে তাই দেশটি এই খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ শুরু করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের ‘আলমাস’ নামের ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথম চালু হয় ২০২০ সালে। এটি ছোঁড়া হয় আবাবিল-৩ ড্রোন থেকে, এবং সহজেই সাঁজোয়া যান, দুর্গ, এমনকি জনবল লক্ষ্যেও আঘাত হানতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আলমাস ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন, হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান কিংবা মানুষের কাঁধ থেকেও উৎক্ষেপণ করা যায়। এটি বর্তমানে চারটি ভিন্ন মডেলে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন অস্ত্র সিরিজ প্রকাশ্যে এনে ইরান শুধু প্রযুক্তিগত শক্তিই নয়, রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছে— মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ময়দানে এখন আর ইসরায়েল একা নয়।