গাজার আকাশে ধোঁয়ার কালো মেঘ কেটে গেছে। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতেই গাজা সিটিতে ফিরছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। শনিবার গাজা সিটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ তাঁদের পুরোনো বাসস্থানে ফিরে গেছেন।
হামাস পরিচালিত সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন, “গতকাল (শুক্রবার) থেকে এখন পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি মানুষ গাজা সিটিতে ফিরে এসেছেন।”
গত কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ বোমাবর্ষণে গাজা সিটি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। ভেঙে পড়েছে বাড়িঘর, ভস্মীভূত হয়েছে বাজার, স্কুল, হাসপাতাল। তবুও মানুষ ফিরছেন নিজের শহরে—ভাঙা দেয়াল, পোড়া রাস্তাগুলোয় নতুন আশার খোঁজে।
দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই বৈঠকের পর ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনায় বসে ট্রাম্প ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, ৬ অক্টোবর মিশরের শারম আল-শেখ শহরে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলি প্রতিনিধিদের মধ্যে শুরু হয় পরোক্ষ আলোচনা। টানা তিনদিন আলোচনার পর ৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রথম ধাপ মেনে নিতে রাজি হয় উভয় পক্ষ।
অবশেষে শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ইসরাইলি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করে। একই দিন গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার শুরু করে আইডিএফ (ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স)।
যুদ্ধের বিভীষিকার পর গাজার রাস্তায় এখন এক নতুন দৃশ্য—মানুষ ফিরছে নিজের ঘরে, কেউ কাঁদছে ধ্বংসস্তূপের পাশে, কেউ আবার হাতুড়ি হাতে মেরামতের কাজ শুরু করেছে। সবকিছু হারিয়েও ফিলিস্তিনিদের মুখে ফুটে উঠছে ফিরে পাওয়ার এক নিঃশব্দ সাহস।