সৌদি আরবের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মসজিদ ও স্কুল থেকে ৫০০ মিটার দূরে কোনো তামাক পণ্যের দোকান স্থাপন বা পরিচালনা করা যাবে না। এই পদক্ষেপটি জনস্বাস্থ্য রক্ষা, নিরাপদ বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শহরের শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়মে সিগারেট, ই-সিগারেট, শীশা এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্য বিক্রির দোকানগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। লাইসেন্স পেতে হলে দোকান মালিকদের অবশ্যই বৈধ বাণিজ্যিক রেজিস্ট্রেশন, সিভিল ডিফেন্স অনুমোদন এবং পৌর লাইসেন্সিং আইনের সব ধারা মেনে চলতে হবে। দোকানটি শহরের বাণিজ্যিক ভবনে অবস্থিত হতে হবে এবং ন্যূনতম আকার ৩৬ বর্গমিটার হতে হবে।
দোকান পরিচালনার নিয়মে সাইনবোর্ডে কোনো লোগো বা প্রচারণামূলক ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ, কেবল দোকানের নাম দেখানো যাবে। ফুটপাত ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দোকানে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম থাকতে হবে, এবং দোকানকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর রাখতে হবে।
স্থাপত্য ও কারিগরি নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে নাগরিক প্রবেশের জন্য র্যাম্প, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা, এবং সৌদি বিল্ডিং কোড অনুযায়ী আলো, বায়ু চলাচল ও এসি সিস্টেমের ব্যবস্থা।
তামাকজাত পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিয়ম রয়েছে। পণ্যের উৎস প্রমাণপত্র রাখতে হবে, কোনো ধরনের মিশ্রণ বা পুনঃপ্যাকেজিং নিষিদ্ধ, ১৮ বছরের নিচে কাউকে বিক্রি করা যাবে না এবং বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক। পণ্য অবশ্যই এসএফডিএ অনুমোদিত হতে হবে, বিনামূল্যে নমুনা বিতরণ, একক সিগারেট বিক্রি বা প্রোমোশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রদর্শনী ও মোড়ক সংক্রান্ত নিয়মে বলা হয়েছে, সব তামাক পণ্য সিল করা প্যাকেটে থাকতে হবে, ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে বিক্রি নিষিদ্ধ, এবং পণ্যের মূল্য স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে। পাশাপাশি সতর্কীকরণ লেবেল ও কিউআর কোড বাধ্যতামূলক, যা লাইসেন্স ও নিয়ম সংক্রান্ত তথ্য দেখাবে।
নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নজরদারি চালাবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই বিধিনিষেধ কার্যকর হলে তামাক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ আসবে, জনস্বাস্থ্য রক্ষা হবে এবং শহরের পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হবে বলে আশা করছে সরকার।