গাজা থেকে ইসরায়েলের জীবিত সব জিম্মি মুক্তি পাওয়ার পর, এবার ইসরায়েলি কারাগার থেকে ১ হাজার ৯৫০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

কাতারভিত্তিক আলজাজিরা জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের বহনকারী ৩৮টি বাসের মধ্যে দুটি বাস ইতোমধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় পৌঁছেছে। বাকি বাসগুলো গাজার পথে রয়েছে।

মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১ হাজার ৭০০ জন আটক এবং ২৫০ জন কারাবন্দি ছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন মুক্তি পেয়েছেন, তা জানা যায়নি।

স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে শুরু করে হামাস। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জীবিত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মি ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছে। বিনিময়ে ১ হাজার ৯৫০ জন ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।

সোমবার দুপুরে ইসরায়েলের সামরিক কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে দুইটি বাস পশ্চিম তীরের রামাল্লায় পৌঁছালে, বিপুল জনতা উল্লাসধ্বনি করে স্বাগত জানান। মুক্তিপ্রাপ্তদের জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় স্বজনদের। আবেগঘন পরিবেশে উৎসবমুখর চিত্র সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রথমে দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে আনা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

নাসের হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, তারা মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের গ্রহণের জন্য অপেক্ষায় আছেন। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের আগে তাদের চিকিৎসা পরীক্ষা করা হবে।

মুক্তিপ্রাপ্তদের বরণ করতে নিতে স্বজনরা হাসপাতালের বাইরে জড়ো হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, পরিবেশে শান্তি ও স্বস্তির ছাপ আছে। গাজাজুড়ে পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।

চিকিৎসাকর্মীরা উল্লেখ করেছেন, এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের অনেকেই অত্যন্ত অবসন্ন, ওষুধ ও খাবারের অভাবে দুর্বল ছিলেন। ইসরায়েলি কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় তারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

 

Walton Ads