গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের তোড়জোড় চলছে। এই বাহিনীতে সৈন্য পাঠানোর সম্ভাব্য দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তান, আজারবাইজান ও ইন্দোনেশিয়ার নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'পলিটিকো' যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং সাবেক এক কর্মকর্তার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

কারা হবে 'শীর্ষ প্রার্থী'?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিনটি দেশকে 'সৈন্য সরবরাহের শীর্ষ প্রার্থী' হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, এখন পর্যন্ত কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্তর্জাতিক মিশনে অংশগ্রহণে সম্মতি জানায়নি।

এর আগে গত বুধবার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা জানান, ইন্দোনেশিয়া ও আজারবাইজানের পাশাপাশি মিশর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) গাজায় গঠিতব্য 'ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স'-এ সৈন্য পাঠাতে পারে।

এই মুহূর্তে ইন্দোনেশিয়াই একমাত্র দেশ, যারা প্রকাশ্যে সৈন্য পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের অনুমোদনে শান্তিরক্ষী মিশনের আওতায় তারা ২০ হাজার সেনা পাঠাতে প্রস্তুত। তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা বা ম্যান্ডেটের উল্লেখ নেই।

হামাসকে নিরস্ত্র করার পরবর্তী ধাপ!
পলিটিকো আরও জানিয়েছে যে, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরের সেনারা ইসরাইলের অভ্যন্তরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গে অবস্থান করবে, যাতে যুদ্ধবিরতি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর হামাসকে নিরস্ত্র করাই এখন মার্কিন পরিকল্পনার পরবর্তী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এখন সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছে— হামাসকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “অনেকে বলে, 'ওরা নিরস্ত্র হবে না।' আমি বলি, ওরা নিরস্ত্র হবে। আমি হামাসের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বলেছি, 'তোমরা নিরস্ত্র হবে, তাই তো?' তারা বলেছে, 'জি স্যার, আমরা নিরস্ত্র হব।' ওরা নিরস্ত্র হবে, নতুবা আমরা ওদের নিরস্ত্র করব—বুঝেছ?”

"গতি ও অগ্রগতি দেখানো এখন জরুরি"
সাবেক বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ড্যানিয়েল শাপিরো মনে করেন, এখনই এই আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কাঠামো নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে সামনে আনা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, “গতি ও অগ্রগতি দেখানো এখন গুরুত্বপূর্ণ। কোন কোন দেশ অংশ নেবে তা নির্ধারণ করা, ম্যান্ডেট ও কাঠামো চূড়ান্ত করা এবং দেখানো যে সৈন্যরা মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত—এসবই পরিকল্পনার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।”

 

Walton Ads