ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে নেওয়া হয়েছে বিশাল এক পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা। তিন ধাপে বাস্তবায়িত এই পরিকল্পনার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আরব দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
গত বছর ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান মুস্তাফা। তিনি একজন অভিজ্ঞ ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ী এবং বর্তমানে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার পুনর্গঠনের পুরো তদারকি করছেন।
রাজধানী রামাল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুস্তাফা বলেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজা ভয়াবহভাবে বিধ্বস্ত। লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে, এবং গোটা অঞ্চলটি যেন কয়েক দশক পিছিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে গাজাকে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। মুস্তাফা জানান, প্রথম ধাপে গাজার জরুরি মানবিক সহায়তা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে জোর দেওয়া হবে। এই ধাপের মেয়াদ ছয় মাস, ব্যয় ধরা হয়েছে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার।
দ্বিতীয় ধাপটি তিন বছরব্যাপী, যার জন্য প্রয়োজন হবে ৩০ বিলিয়ন ডলার। এতে গাজায় বসবাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহন অবকাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে।
তৃতীয় ও শেষ ধাপের লক্ষ্য হবে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন এবং গাজার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার। মুস্তাফা বলেন, “এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চলছে।”
তিনি আরও জানান, যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার এক মাস পর মিসরে অনুষ্ঠিত হবে গাজা পুনর্গঠন নিয়ে একটি বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যেখানে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সহায়তা চাওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে গাজার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তবে এর সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।