২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত ভারী আকার নিয়েছে; মস্কো পূর্ব ইউক্রেনের অনেক এলাকা দখল করে রেখেছে এবং ক্রেমলিন তা ছাড়তে নারাজ। তবুও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন যুদ্ধে বিরতি দিতে প্রস্তুত—কিন্তু একেবারেই নিজের শর্তে।
পুতিন ফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছিলেন যে যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য মস্কোকে ডনেৎস্ক জেলার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে হবে। পশ্চিমা গণমাধ্যম ও আমেরিকান প্রশাসনের কিছু সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে এই বিষয়টি বলা হয়েছে। পুতিন আরও বলেছিলেন, ডনেৎস্ক ছাড়াও জ়াপোরিঝিয়া ও খেরসনের ওপরও রাশিয়ার দাবি রয়েছে এবং এগুলোও মস্কোকে যেতে হবে—এমনই আভাস দিয়েছে রুশ নেতা।
ট্রাম্প ওই ফোনালাপের পরে বলেছিলেন যে যুদ্ধবিরতিতে ‘বড় অগ্রগতি’ হয়েছে এবং তিনি ও পুতিন নির্ধারিত দিনে বুদাপেস্টে সাক্ষাৎ করবেন—এমনই দাবি করেছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান। পরবর্তীতে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠক করেন; বৈঠকের পর ট্রাম্প লিখেছেন যে “যথেষ্ট যুদ্ধ হয়েছে, এখন থামা উচিত।” জ়েলেনস্কিও এই মূল বার্তাটিকে সমর্থন করেছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এক বক্তব্যও আছে—তিনি বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখনই দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করবে না ইউক্রেনকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুতিন সম্ভবত এই বিষয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিল এবং ট্রাম্পও সেটা মাথায় রেখেছেন।
মার্কিন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার বরাতে বলা হচ্ছে, পুতিন শুধু ডনেৎস্কই নয়, জ়াপোরিঝিয়া ও খেরসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও চেয়েছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা মানুষের অধিকাংশের মত দেখাচ্ছে যে, ইউক্রেন এই শর্ত মেনে নেবে না—সেই জমি তারা ছেড়ে দেবে বলে ভেবে নেয়া কঠিন। কেবলই সমঝোতা হলে কি যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে, তা স্পষ্ট হবে পুতিন ও ট্রাম্পের সম্মুখীন বৈঠকের পরে।
সাম্প্রতিক কালে যে ‘বড় অগ্রগতি’ ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, সেটি কেমন—কোন শর্তে ও কীভাবে অর্জিত হবে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সামনে আসবে না যতক্ষণ না শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার চূড়ান্ত নির্দেশনা আসে। ইউক্রেন যথাসম্ভব নিজস্ব সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে নিরাপত্তা ও শান্তি চাইছে; মস্কোর দাবিগুলো মেনে নিলে ভূখণ্ডিক বড়ো রদবদল হবে—যা ইউক্রেন কখনই সহজে মেনে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে না।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের ফলাফল কিভাবে উত্তরণ করে, তা আগামী দিনে নির্ধারণ করবে—ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র কোথায় দাঁড়াবে, তা এখনই বলা কঠিন।