বিখ্যাত আরব বিশ্লেষক ও সাংবাদিক আব্দুল বারি আতওয়ান ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আচরণকে “বিপজ্জনক প্রবণতা” বলে সতর্ক করেছেন। তার মতে, ইসরায়েল প্রথমে আরব দেশগুলোকে অপমান করে, পরে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি ঢাকতে চায়— আর সেটিই এখন এক নিয়মিত কৌশলে পরিণত হচ্ছে।

আব্দুল বারি আতওয়ান, যিনি আন্তর্জাতিক দৈনিক ‘রাই আল-ইয়াওম’-এর সম্পাদক, পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক হিসেবেও সুপরিচিত। তিনি তার সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে লিখেছেন, “আরব–ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন এই ধারা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ হুমকি।”

তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি নেতাদের অবমাননাকর আচরণ ও পরে ক্ষমা চাওয়া এখন যেন এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, আর এই আচরণের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোর নীরবতা ও নমনীয় অবস্থানই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।

পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আতওয়ান দাবি করেছেন— ইসরায়েলের এসব ক্ষমা সাধারণত মার্কিন চাপের ফল। এগুলো কোনো বন্ধুত্ব নয়, বরং অপরাধ ও অপমান ঢাকার কৌশল। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কাতারে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করেন। কিন্তু কোনো আরব সরকারই তাতে প্রতিবাদ জানায়নি।

আতওয়ানের মতে, এই ধরনের “ক্ষমা নাটক” মেনে নেওয়া মানে শত্রুকে বৈধতা দেওয়া, যে দখলদার এখনো আরব ভূমিতে দখল বজায় রেখে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন, যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তবে শিগগিরই এটি একটি নিয়মে পরিণত হবে— প্রথমে হামলা, তারপর অপমান, শেষে ক্ষমা।

তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে, সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

শেষে আতওয়ান আহ্বান জানান, আরব ও মুসলিম দেশগুলোর এখনই উচিত মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষা করে এই অপমানজনক প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। তার ভাষায়, “যদি আমরা এখনই দৃঢ় অবস্থান না নিই, ভবিষ্যতে আরব জাতির মর্যাদা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।”

s

Walton Ads