গাজা এখনো ধ্বংসের স্তূপে চাপা, অবরোধে হাঁপিয়ে উঠছে। ঠিক তখনই ইসরায়েলি বুলডোজার সিরিয়ার গোলানে বন কেটে ফাঁকা করছে, আর তেলআবিবের নেতারা নেসেটে বসে দখলের নতুন প্ল্যান আঁটছে।

গাজার যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছায়া ফেলে রেখেছে, কিন্তু ইসরায়েল একাধিক ফ্রন্টে নতুন করে দখলদারি চালাচ্ছে। পশ্চিম তীর, সিরিয়া, কূটনীতি, বিজ্ঞান—সবখানেই চাপ বাড়াচ্ছে। পার্সটুডে'র রিপোর্টে এসবের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

নেসেটে সরকারকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেছেন, নেসেট সদস্যরা “পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব আরোপ আইন” নিয়ে ভোটের চেষ্টা করেছিলেন—ঠিক যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলে ছিলেন। সারের দাবি, এটা ট্রাম্পের “শান্তি পরিকল্পনা”-র অংশ। লক্ষ্য? ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বদলে ফেলা আর বন্দিদের বেতন বন্ধ করা।
ইইউ নীরব থেকে ইসরায়েল-বিরোধী উস্কানি ছড়াচ্ছে—এমন অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

গাজায় অবরোধ চলছেই, লাশ দিয়ে দর কষাকষি

যুদ্ধবিরতি হলেও গাজায় মানবিক সাহায্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধু ক্যানড খাবার আর নুডলসের ট্রাক পার হচ্ছে। মাংস, মুরগি, মূল খাবার সীমান্তে আটকে।

ফিলিস্তিনি সূত্র বলছে, ইসরায়েল নিহত সেনাদের লাশ ফেরত পাওয়ার বিনিময়ে খাবার-ওষুধ ছাড়ছে।
আল-কাস্সাম ব্রিগেড জানিয়েছে, তারা ১৭ জন ইসরায়েলি সেনার মরদেহ রেড ক্রসকে দিয়েছে। কিন্তু গাজার ধ্বংসের মধ্যে বাকি লাশ খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য।

সিরিয়ায় বুলডোজারে বন ধ্বংস

আল-আরবি আল-জাদিদের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ২০২৪ অক্টোবর থেকে ২০২৫ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ সিরিয়ায় ৬০ হেক্টর সংরক্ষিত বন ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি সেনা।
কুনেইত্রা প্রদেশের জাবাতা আল-খাশব ও আশ-শাহার এলাকায় বুলডোজার দিয়ে বন কেটে সামরিক ঘাঁটি আর মাইনফিল্ড বানানো হয়েছে।
সিরীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে বিরল প্রাণী-উদ্ভিদের আশ্রয় ছিল। এই ধ্বংস পুরো অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস করছে।

সৌদি আরবকে অপমান: নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভায় ঝড়

ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন, “সৌদি ছাড়া ৭৭ বছর বেঁচেছি, আরও ৭৭ বছর বাঁচব।”
আগে বলেছিলেন, “তোমরা মরুভূমিতে উট চড়াও।”
সমালোচনার ঝড় উঠলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চান, কিন্তু শর্ত দেন—সৌদি যদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি মালিকানা মানতে হবে। এতে চুক্তি প্রায় অসম্ভব হয়ে গেল।

বিজ্ঞান-শিক্ষায় ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা

হারেতজের খবরে, ২০২৩ অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের প্রায় ১,০০০ বিশ্ববিদ্যালয়-গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করেছে—আগের বছরের তিন গুণ।
তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান বলছেন, “ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর একাডেমিক বিচ্ছিন্নতা।”
শুধু শিক্ষা নয়, খেলাধুলা-সংস্কৃতিতেও ইসরায়েলি দলগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বয়কট করা হচ্ছে।

 

Walton Ads