আজ বাংলাদেশে জোরালো ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার খুব কাছে, নরসিংদীতে। মাত্রা কম (৫.৭) হলেও উৎপত্তিস্থল কাছাকাছি হওয়ায় ঝাঁকুনিটা বেশি বোঝা গেছে। অনেকেই ঘর, অফিস ও ভবনে স্পষ্ট কাঁপুনি টের পেয়েছেন।

এই ভূমিকম্পের আবহে ফিরে দেখা যাক বিশ্বের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর দিকে, যা মানবজীবন ও ভূগোলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল।
ভূকম্পবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি ভূমিকম্প ৮.৮ মাত্রার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

১ম,চিলির ভালডিভিয়া ভূমিকম্প,১৯৬০,৯.৫,এতে ১ হাজার ৬৫৫ জন নিহত হন এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।
২য়,আলাস্কা ভূমিকম্প,১৯৬৪,৯.২,
৩য়,জাপানের গ্রেট তোহোকু ভূমিকম্প,২০১১,৯.১,ভয়াবহ সুনামি ও ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটে।
৪র্থ,সুমাত্রা ভূমিকম্প,২০০৪,৯.১,
৫ম,ক্যামচাটকা ভূমিকম্প,১৯৫২,৯.০,

২০১১ সালের জাপানের গ্রেট তোহোকু ভূমিকম্পের পর চলতি বছরের জুলাই মাসে রাশিয়ার ক্যামচাটকা উপদ্বীপে যে ভূমিকম্পটি হয়, সেটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮.৮। এর পরই সুনামি তৈরি হয়। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে সতর্কতা জারি করা হয় এবং মানুষকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়।

রাশিয়ার জুলাই মাসের এই ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি পূর্বের ২০১০ সালের চিলির এবং ১৯০৬ সালের ইকুয়েডর উপকূলে হওয়া ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পগুলোকে পিছিয়ে দিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের ভয়াবহ সেই ভূমিকম্প
বাংলাদেশের ইতিহাসেও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৭৬২ সালে, টেকনাফে।
টেকনাফ থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার লম্বা ফল্ট লাইনে ৮.৫ মাত্রার বেশি কাঁপুনি হয়েছিল।
এতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ তিন মিটার ওপরে উঠে আসে। এর আগে এটি ছিল নিচু ও প্রায় ডুবন্ত দ্বীপ।
একই ভূমিকম্পে মিয়ানমারের একটি দ্বীপ ছয় মিটার ওপরে উঠে যায়।
সীতাকুন্ড পাহাড়ে শক্ত পাথর ভেদ করে নিচ থেকে কাদা ও বালু বের হয়ে আসে।
বঙ্গোপসাগরে সুনামি হয়।
ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পাশের অনেক ঘরবাড়ি পানিতে ভেসে যায়।
ঐ ঘটনায় প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়।

 

Walton Ads