ইসরাইল এখন একটা “মানসিক স্বাস্থ্য সুনামি”র মধ্যে ডুবে আছে। ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, পিটিএসডি, ঘুমের সমস্যা, আসক্তি – সবকিছুতেই রেকর্ড ভাঙা বৃদ্ধি। দেশের শীর্ষ পত্রিকা ইয়েদিওথ আহরোনোথ বলছে, প্রায় ২০ লাখ মানুষ জরুরি মানসিক সাহায্যের অপেক্ষায় কাতারে দাঁড়িয়ে আছে!
৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামাস হামলার পর থেকে মানুষের মন ভেঙে চুরমার। দীর্ঘ যুদ্ধ, রকেটের শব্দ, প্রিয়জন হারানো – সব মিলিয়ে ডিপ্রেশন, ট্রমা, শোক আর একাকীত্বে ডুবে গেছে লাখ লাখ মানুষ। থেরাপিস্ট আর সেবার অভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
গত সপ্তাহে আটটা বড় মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা সরকারকে সতর্ক করে বলেছে, “ইসরাইলের ইতিহাসে এমন মানসিক রোগের বিস্ফোরণ আর কখনো দেখা যায়নি।”
ক্লালিট হেলথের গবেষণায় দেখা গেছে, ৭ অক্টোবরের হামলায় প্রভাবিতদের ৫০% এখনো মানসিকভাবে লড়ছে। প্রতি পাঁচজনের একজনের কাজকর্মে বড় সমস্যা। থেরাপির চাহিদা বেড়েছে ৪৭১%!
আসক্তির ঝুঁকি আকাশছোঁয়া
হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেরাভ রথ বলছেন, “এখন প্রতি চারজনের একজন আসক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে! ২০১৮ সালে ছিল প্রতি দশজনে একজন। এটা সত্যিই ভয়ঙ্কর।”
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১.৭ বিলিয়ন শেকেলের (প্রায় ৫১৭ মিলিয়ন ডলার) একটা জাতীয় পুনর্বাসন প্ল্যান ঘোষণা করেছে – মনোবিজ্ঞানী দ্বিগুণ করা, বেতন বাড়ানো, কমিউনিটি সেবা বাড়ানো। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এটা যথেষ্ট না। মাত্র তিন মাসের ট্রেনিং দিয়ে সহকারী নিয়োগ করলে হবে না। পুরো সিস্টেম নতুন করে গড়তে হবে।”
ডা. মারিনা কুপচিক সতর্ক করেছেন, “এখনই বড় বিনিয়োগ না করলে ২-৩ বছরে পুরো সমাজ, পরিবার আর কর্মক্ষমতা ভেঙে পড়বে।”