আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর এক বিমান হামলার অভিযোগ এনেছে। এই হামলায় মঙ্গলবার খোস্ত প্রদেশে ৯ শিশু ও এক নারী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে তারা। এর জবাবে তালেবান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তারা এই হামলার ‘প্রতিশোধ’ নেবে।
তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন, পাকিস্তানের বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল একটি স্থানীয় বেসামরিক পরিবারের বাড়ি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, "ইসলামিক আমিরাত (তালেবান সরকার) দেশের আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও জনগণ রক্ষা করার বৈধ অধিকার রাখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা প্রতিশোধ নেব।"
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধার কাজ ও মৃতদের দাফনের প্রস্তুতি চোখে পড়েছে। খোস্ত প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র মুশতাগফির গুরবুজ আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, এই হামলা চালানো হয়েছে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ব্যবহার করে।
পাশাপাশি, সংলগ্ন কুনার ও পাকতিকা সীমান্ত এলাকাতেও হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
কিন্তু পাকিস্তান এই সব অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী স্পষ্ট বলেন, "পাকিস্তান আফগানিস্তানে কোনো হামলা চালায়নি। আমরা কখনোই বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা করি না। আফগান অন্তর্বর্তী সরকারের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"
উল্লেখ্য, এই ঘটনা ঘটেছে পেশোয়ারে পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে একটি আত্মঘাতী হামলার মাত্র একদিন পর। সেখানে তিনজন কর্মকর্তা নিহত এবং ১১ জন আহত হন। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এখনো দায় স্বীকার না করলেও, পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত চ্যানেল পিটিভি দাবি করেছে, সেই হামলাকারীরা আফগান নাগরিক ছিল।