ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা দুই বছর ধরে ইসরায়েলের আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণা এমনই ভয়াবহ তথ্য সামনে এনেছে।

এই গবেষণায় বলা হয়েছে—সরকারি হিসাবের বাইরে আরও বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ২৫ নভেম্বর এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা জাইট–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এতদিন যে মৃত্যুর সংখ্যা অনুমান করা হচ্ছিল, বাস্তবে তা অনেক কম দেখানো হয়েছিল। জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্দরনগরী রস্টকে অবস্থিত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে অন্তত এক লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

গবেষণা প্রকল্পটির কো-লিডার ইরিনা চেন বলেন, “সঠিক মৃতের সংখ্যা আমরা কোনোদিনই জানতে পারব না। আমরা কেবল যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মত অনুমান দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

উল্টো আগের গবেষণাগুলো দেখায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাধারণত সংযত হিসাব দেয়। এখন অনেক প্রমাণেই দেখা যাচ্ছে—বাস্তবে সরকারি সংখ্যার তুলনায় আরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। বিভিন্ন স্বাধীন গবেষণায় অপ্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যা বেশি পাওয়া গেছে বারবার।

এ ছাড়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মূলত হাসপাতাল থেকে ইস্যুকৃত মৃত্যু সনদের ভিত্তিতে নিশ্চিত মৃত্যু গণনা করে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে বহু হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন স্বজনদের দেওয়া মৃত্যুসংবাদও গ্রহণ করা হয়, পরে বিশেষ প্যানেল সেটি যাচাই করে। বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে যারা মারা যায়—তাদের অনেকেরই তথ্য কোনো রেকর্ডে ওঠে না।

Walton Ads