মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আসন্ন নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তিন হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। বুধবার এই বন্দিমুক্তির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দ্য স্ট্রেট টাইমস।
২০২১ সালে সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করলে দেশজুড়ে বিরোধীরা দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। সেই সময় বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করে সামরিক সরকার। এই অভ্যুত্থান থেকেই শুরু হয় এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ। আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তেই অবশেষে সেনা সরকার আগামী ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে।
জান্তা জানিয়েছে, ২৬ নভেম্বর অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণকারী আইনে অভিযুক্ত মোট ৩,০৮৫ জনের সাজা মওকুফ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের সামনে এএফপির সাংবাদিকরা প্রায় ২০০ বন্দির মুক্তি প্রত্যক্ষ করেন।
মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন অং সান সু চির দল এনএলডির সাবেক তথ্য কমিটির প্রধান কি টো। মুক্তির পর তিনি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেও রাজধানী নেপিদোতে সামরিক কারাগারে থাকা সু চির সাথে “একসাথে কাজ করার জন্য দৃঢ় থাকার” অঙ্গীকার করেন।
যেসব ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশই সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে কারাবন্দী ছিলেন—যার পিছনে থেকেই গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত। সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, আসন্ন গণতান্ত্রিক বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচনে যেন “যোগ্য কেউ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন”, তাই তাদের সাজা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংস্থা ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নির্ধারিত এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে—তাদের মতে, এটি “একটি প্রহসন” ছাড়া কিছুই নয়।