আফগান পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা ইস্যু অবিলম্বে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। 'জননিরাপত্তা'র স্বার্থে নেওয়া এই কঠোর সিদ্ধান্তটি কার্যত ট্রাম্প প্রশাসনের চরম অভিবাসন নীতিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। বিশেষ করে, ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলার পরপরই এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘোষণা করা হলো।

মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আফগানদের সব আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন, পররাষ্ট্র দপ্তর আফগান পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণকারী সব ব্যক্তির জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিত করেছে।

হামলার সন্দেহভাজন আফগান নাগরিক: সম্প্রতি ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের ওপর হামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকানওয়ালের নাম প্রকাশিত হয়েছে। এই হামলায় একজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হন এবং অন্যজন গুরুতর আহত হন। জানা যায়, লাকানওয়াল একসময় আফগানিস্তানে সিআইএ-এর হয়ে কাজ করতেন।

নিরাপত্তার উদ্বেগ: মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-এর পরিচালক জোসেফ এডলো বলেছেন, "মার্কিন জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত সব আশ্রয় সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।"

ট্রাম্পের কঠোর পরিকল্পনা: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ১৯টি দেশের গ্রিনকার্ড আবেদন পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, "তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ" থেকে অভিবাসন স্থগিত করার পরিকল্পনা রয়েছে—যদিও কোন কোন দেশকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে, তা এখনও পরিষ্কার করেননি।

কারা বাদ পড়বেন: ট্রাম্প আরও জানান, "যারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত সম্পদ নন বা দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম—তাদের দেশ থেকে সরানো হবে। নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করা, সামাজিক শান্তি নষ্ট করা বা সরকারি সাহায্যের বোঝা হয়ে থাকা বিদেশিদেরও নাগরিকত্ব বা অবস্থান বাতিল করা হবে।"

এছাড়াও, ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালে তারা মাত্র ৭,৫০০ শরণার্থী গ্রহণ করবে। এটি ১৯৮০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বনিম্ন শরণার্থী কোটার মধ্যে অন্যতম।

 

Walton Ads