ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যানশিয়াল টাইমস-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালে ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীরা দ্বিতীয়বারের মতো রাশিয়ায় গোপন সফর করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গভীর আশঙ্কা, এই সফরের লক্ষ্য ছিল এমন কিছু সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহ করা, যা সরাসরি পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে লাগতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথম গোপন বৈঠকের পর, একই বছরের নভেম্বর মাসে ইরানি বিজ্ঞানীরা আরও একবার রাশিয়া সফর করেন। এই সফরে তারা রাশিয়ার সামরিক-সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা এসপিএনডিএর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওয়াশিংটনের দাবি, এসপিএনডি হলো ইরানের পরমাণু অস্ত্র গবেষণাগারগুলোর মূল তদারকি সংস্থা এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে এটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন-প্রলিফারেশন স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো এবং সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম লামসন বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানি বিশেষজ্ঞরা মূলত লেজার প্রযুক্তির সন্ধানে ছিলেন।

এর কারণ হলো, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো বাস্তব বিস্ফোরণ না ঘটিয়েই পরমাণু অস্ত্রের নকশা যাচাই করা সম্ভব। লামসনের কথায়, এর অর্থ হলো—যদি ইরান এই প্রযুক্তি হাতে পায়, তাহলে তারা পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা না করেই ব্যবহারযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে। যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য চরম উদ্বেগের।

প্রতিবেদন অনুসারে, এসপিএনডির একটি সহযোগী বা 'ফ্রন্ট কোম্পানি' যার নাম দামাবন্দটেক , তারাই নভেম্বরে ইরানি লেজার বিশেষজ্ঞদের সেন্ট পিটার্সবার্গ সফরের ব্যবস্থা করে দেয়। সেখানে তারা 'লেজার সিস্টেমস'  নামক একটি রুশ কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উল্লেখ্য, এই রুশ সংস্থাটি অসামরিক এবং সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই উন্নত লেজার প্রযুক্তি তৈরি করে এবং বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে।

শুধু ইরানের সফর নয়, জানা যায়, লেজার সিস্টেমসের সাবেক টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং সেন্ট পিটার্সবার্গভিত্তিক কনগ্লোমারেটের শীর্ষ কর্মকর্তা আন্দ্রেই সাভিন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তেহরান সফর করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দামাবন্দটেক এবং এসপিএনডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরবর্তী ধাপের বৈঠক করতে ইরানে গিয়েছিলেন।

এই ঘটনাগুলো ইসরাইলসহ গোটা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ইরানের হাতে এই স্পর্শকাতর প্রযুক্তি চলে এলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ভয়ঙ্কর ও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

Walton Ads