ইউক্রেনে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের জেরে দেশটির রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির সবচেয়ে শক্তিশালী ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী আন্দ্রি ইয়েরমাক পদত্যাগ করেছেন। জেলেনস্কি নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার অভিযান চালানোর পর এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার শুরু থেকেই ইয়েরমাককে জেলেনস্কির অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ঘিরে চাপ বাড়তে থাকায় তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন—যদিও তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ ওঠেনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়ায়, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও ইয়েরমাকের কাঁধে ছিল।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের বাইরে থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে জেলেনস্কি বলেন,
“আমরা নিজেদের, ইউক্রেন ও আমাদের ভবিষ্যৎ—সবকিছু হারানোর ঝুঁকিতে আছি।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুর্নীতি ইস্যু ইউক্রেনের রাজনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। এতে শুধু সরকারের ভাবমূর্তিই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনাও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত খসড়া শান্তি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে চাপ দিচ্ছে, কারণ প্রস্তাবটি রাশিয়ার দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে আছে বলে অভিযোগ।
শুক্রবার ভোরে দু’টি দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা কিয়েভের সরকারি কোয়ার্টারে ইয়েরমাকের অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালায়। ইয়েরমাক পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন,
“আমি পূর্ণ সহযোগিতা করছি।”
জেলেনস্কি ভিডিও বার্তায় বলেন,
“আলোচনার প্রতিটি পর্যায়ে ইয়েরমাক দেশপ্রেমিক অবস্থান থেকে ইউক্রেনের স্বার্থ তুলে ধরেছেন।”
তিনি আরও জানান, শনিবার থেকেই নতুন চিফ অব স্টাফ নিয়োগের বিষয়ে পরামর্শ শুরু হবে।
“যুদ্ধের সময় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা—সবকিছু সামলাতে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব দরকার,” বলেন জেলেনস্কি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “রাশিয়া চায় আমরা ভুল করি। আমরা কোনো ভুল করব না। আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে—এখন নিজেদের মধ্যে বিরোধের সময় নয়।”
ইয়েরমাকের পদত্যাগ জেলেনস্কির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে—বিশেষ করে এ সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সচিব ড্যান ড্রিসকল কিয়েভে আসার কথা রয়েছে, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।
এরই মধ্যে মার্কিন প্রতিনিধিরা মস্কো যাচ্ছেন, আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন তিনি হাঙ্গেরিতে সম্ভাব্য ট্রাম্প–পুতিন বৈঠকের প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছেন।
রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ দাবিতে অটল। পুতিন আবারও বলেছেন, পূর্ব ডনবাস অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনী সম্পূর্ণভাবে সরে না গেলে যুদ্ধ থামবে না।
তার ভাষায়, “যদি তারা না সরে, আমরা শক্তি প্রয়োগ করে তা অর্জন করব।”
অভিযানের কিছু ঘণ্টা আগেও ইয়েরমাক যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন,
“জেলেনস্কি রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ইউক্রেনের এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেওয়া হবে না।”
৫৪ বছর বয়সী ইয়েরমাক স্বীকার করেছেন, তিনি পদত্যাগের জন্য প্রচণ্ড চাপের মুখে ছিলেন। তিনি আরও বলেন,
“তদন্ত দ্রুতগতিতে চলছে। এটি অবশ্যই স্বাধীনভাবে ও রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই সম্পন্ন হওয়া উচিত।”