গাজার যুদ্ধের শুরুতে এক মাসেরও বেশি সময় সেখানে কাটানো এক ফরাসি ইতিহাসবিদ জানিয়েছেন, সংঘাতের মধ্যে ত্রাণবাহী গাড়িতে হামলা করা লুটেরাদের ইসরায়েল সহায়তা করেছে—এমন ‘পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ তিনি পেয়েছেন।
ফ্রান্সের বিখ্যাত সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক অধ্যাপক জিন-পিয়ের ফিলিউ গত ডিসেম্বরে গাজায় প্রবেশ করেন। দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা আল-মাওয়াসিতে একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা তাকে আশ্রয় দেয়।
যেখানে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের গাজায় প্রবেশ করতে দেয়নি, সেখানে ফিলিউ কঠোর নজরদারি এড়িয়ে ঢুকে পড়তে সক্ষম হন। যুদ্ধের সময় জানুয়ারির দ্বিতীয় স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর তিনি গাজা ত্যাগ করেন। তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বই ‘আ হিস্টোরিয়ান ইন গাজা’ মে মাসে ফরাসি এবং চলতি মাসে ইংরেজি সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।
ইসরায়েলি হামলার পর ত্রাণ লুট—বইয়ে ভয়ংকর বর্ণনা
বইটিতে ফিলিউ বর্ণনা করেছেন, কীভাবে ত্রাণবাহী কনভয় পাহারাদারদের ওপর ইসরায়েলি সামরিক হামলার পর লুটেরারা বিপুল পরিমাণ খাবার ও সরঞ্জাম লুট করতে সক্ষম হয়—যা ছিল চরম সংকটে থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য বরাদ্দ। সে সময় গাজায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো।
ফিলিউ লেখেন, আল-মাওয়াসির কাছেই ঘোষিত ‘মানবিক অঞ্চলে’ লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ দিন কাটাচ্ছিল তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি ছেড়ে।
ফিলিউর বর্ণনায়, মিশর সীমান্তবর্তী করিডোর ধরে কেরেম শালোমে ইসরায়েলি চেকপয়েন্ট থেকে ময়দা এবং স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী বহনকারী ৬৬টি ট্রাক পশ্চিমে যায়, এরপর উপকূলীয় সড়ক ধরে উত্তরের দিকে অগ্রসর হয়।
হামাস কনভয়ের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছিল, এমনকি তাদের রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারগুলোকে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই কনভয়টি আক্রমণের মুখে পড়ে।
“এক রাতে আমি মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে ছিলাম। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোনগুলো লুটেরাদের সাহায্য করছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা দলকে আক্রমণ করছে।”
তিনি আরও জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দুইজন স্থানীয় নেতাকে হত্যা করে, যারা গাড়িতে বসে অস্ত্রসহ কনভয় রক্ষার প্রস্তুতিতে ছিলেন।